বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রকাশ করেছে সম্পূরক খসড়া ভোটার তালিকা। রোববার (১০ আগস্ট) রাজধানীতে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ তালিকা ঘোষণা করেন। নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ নতুন ভোটার, আর মৃত বা অযোগ্য হিসেবে বাদ পড়েছেন ২১ লাখের বেশি ভোটার।
হালনাগাদ ভোটার তালিকায় বড় পরিবর্তন
সম্পূরক খসড়া তালিকা অনুযায়ী, দেশে নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ২১৬ জন। অন্যদিকে, মৃত, স্থানান্তরিত বা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে বাদ গেছেন ২১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯০ জন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটার কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
ইসি জানিয়েছে, এই খসড়া তালিকা প্রকাশের ফলে এখন থেকেই শুরু হয়েছে দাবি-আপত্তি গ্রহণের প্রক্রিয়া। ২১ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকেরা ভোটার অন্তর্ভুক্তি, নাম কর্তন, স্থানান্তর এবং যে কোনো ত্রুটি সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন (ফরম-২, ফরম-১২, ফরম-১৩ ও ফরম-১৪ এর মাধ্যমে)।
চূড়ান্ত তালিকা কবে প্রকাশ হবে?
সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ২১ আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত সব দাবি-আপত্তি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩১ আগস্ট। ইতোমধ্যেই দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে খসড়া তালিকা টানানো হয়েছে, যাতে নাগরিকেরা তথ্য যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন।
বছরের শুরু থেকে ভোটার তালিকার অগ্রগতি
ইসি আইন অনুযায়ী এ বছরের প্রথম তালিকা প্রকাশ হয় ২ মার্চ। তখন দেশের মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন। এরপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্ত হয় নতুন ভোটাররা। মৃত ও অযোগ্য ভোটার বাদ দিয়ে তালিকা আরও নির্ভুল করা হয়।
এ বছর ইসি মোট তিনটি ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে—প্রথমটি ২ মার্চ, দ্বিতীয়টি ৩১ আগস্ট এবং তৃতীয়টি ৩১ অক্টোবর।
নতুন ভোটারদের জন্য বিশেষ সুযোগ
নতুন আইন অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ পূর্ণ হবে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। আগে ১৮ পূর্ণ হওয়ার পর এক বছর অপেক্ষা করতে হলেও এখন আর সে বাধ্যবাধকতা নেই। নবীন ভোটারদের দ্রুত ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতেই এই বিধান রাখা হয়েছে।
আবেদনের শেষ সময় ও যাচাই প্রক্রিয়া
খসড়া ভোটার তালিকায় ভুল বা বাদ পড়া তথ্য সংশোধনের আবেদন জমা দেওয়া যাবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত। সব আবেদন নিষ্পত্তি হবে ২৪ আগস্ট-এর মধ্যে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে।
এছাড়া ৩১ অক্টোবরের চূড়ান্ত হালনাগাদ তালিকায় যুক্ত হবে সে সময়ের নতুন প্রাপ্তবয়স্করা। ফলে ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ভোটার তালিকা হবে আরও হালনাগাদ ও পূর্ণাঙ্গ।
ভোটার তালিকা হালনাগাদে নাগরিক সচেতনতার প্রয়োজন
নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়—এটি গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার অন্যতম ভিত্তি। সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে ভোটারদের নিজ দায়িত্বে যাচাই ও আপডেট করা প্রয়োজন।
ভোটার তালিকায় সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়া, যা দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণে প্রত্যেক নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।


