ক্যারিবীয় দ্বীপ সেন্ট বার্টস আবারও পরিণত হলো ধনকুবের ও তারকাদের মিলনমেলায়। বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং তার স্ত্রী লরেন সানচেজ এখানে কাটাচ্ছেন একেবারে রাজকীয় সময়। বিলাসবহুল সুপারইয়ট, আলো ঝলমলে পার্টি, নামী তারকাদের আনাগোনা আর লরেন সানচেজের সাহসী ফ্যাশন—সব মিলিয়ে এই ছুটি এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
সুপারইয়টে সূর্যাস্ত আর আলোচিত বিকিনি লুক
সেন্ট বার্টসে অবস্থানের সময় ৫৬ বছর বয়সী লরেন সানচেজকে দেখা যায় জেফ বেজোসের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সুপারইয়টে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে। তিনি পরেছিলেন একটি ছোট জেব্রা-প্রিন্ট বিকিনি টপ, যা নিয়ে মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা। অনেকের চোখে এটি ছিল সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, আবার কেউ কেউ একে বাড়াবাড়ি বলেও মন্তব্য করেছেন।
সানচেজ তার বিকিনি টপের সঙ্গে সাদা সারং ও ম্যাচিং জেব্রা বটম পরেছিলেন। চুল বাঁধা ছিল উঁচু পনিটেলে, চোখে ছোট কালো সানগ্লাস। পুরো লুকটি ছিল রিসোর্ট ফ্যাশনের এক আধুনিক উদাহরণ, যা ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
ব্যক্তিগত মুহূর্ত থেকে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত
এক পর্যায়ে লরেন সানচেজকে দেখা যায় ইয়টের ডেকে দাঁড়িয়ে আইফোনে কাউকে টেক্সট করতে। এমন স্বাভাবিক মুহূর্তও ক্যামেরায় ধরা পড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। কারণ, তিনি এখন শুধু জেফ বেজোসের স্ত্রী নন, নিজেও একজন পরিচিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও লেখক।
এই দম্পতির প্রতিটি মুহূর্ত যেন এখন খবরের শিরোনাম। ছুটির আনন্দ, হাসি, নাচ কিংবা সাধারণ কথোপকথন—সবকিছুই আগ্রহের সঙ্গে অনুসরণ করছে বিশ্ব।
তারকাখচিত অতিথিদের ভিড়
সেন্ট বার্টসে এই ছুটি শুধু দু’জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ইয়টে তাদের আতিথেয়তা নিতে দেখা যায় একাধিক বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বকে। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন OpenAI-এর প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান, হলিউড সুপারস্টার লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এবং তার বান্ধবী, ইতালিয়ান মডেল ভিটোরিয়া সেরেত্তি।
এমন অতিথিদের উপস্থিতিতে ইয়ট যেন পরিণত হয় ভাসমান তারকা ক্লাবে। আড্ডা, খাবার, সংগীত আর ক্যারিবীয় বাতাস—সব মিলিয়ে পরিবেশ ছিল একেবারে সিনেমার মতো।
নিকি বিচে জন্মদিনের পার্টি ও নাচের ভিডিও
এই সপ্তাহের শুরুতে সানচেজ ও বেজোসকে দেখা যায় সেন্ট বার্টসের জনপ্রিয় নিকি বিচে এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করতে। সেখানে বোতল পরিষেবা দেওয়া বিকিনি পরা নারীদের সঙ্গে পার্টিতে মেতে ওঠেন তারা। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, লরেন সানচেজ ডেনিম মিনি স্কার্ট ও স্কিন-টাইট বাদামী টপ পরে নিজের সিটে দাঁড়িয়ে নাচছেন।
তিনি নিজেই সেই আনন্দময় মুহূর্ত ফোনে রেকর্ড করছিলেন। পাশে বসে থাকা ৬১ বছর বয়সী জেফ বেজোস হাসিমুখে হাততালি দিচ্ছিলেন। তার পরনে ছিল নীল শার্ট, চোখে সানগ্লাস। এই দৃশ্য অনেকের কাছে ছিল নির্ভেজাল আনন্দের ছবি।
বিলাসী বিয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা
এই ছুটি আরও বিশেষ, কারণ এটি স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাদের প্রথম বড়দিন ও নতুন বছর। গত গ্রীষ্মে তারা ভেনিসে এক জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের মাধ্যমে গাঁটছড়া বাঁধেন। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইভাঙ্কা ট্রাম্প, অপরাহ উইনফ্রে এবং কিম কার্দাশিয়ানের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা।
প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আয়োজিত সেই বহুদিনব্যাপী বিয়েতে ছিল ফোম পার্টি, বিবাহপূর্ব রাজকীয় ডিনার এবং বিয়ের পর হ্যারি’স বারে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ। প্রতিটি আয়োজনই ছিল আলাদা করে পরিকল্পিত ও নজরকাড়া।
সংগীত, ফ্যাশন ও রাজকীয় আয়োজন
বিয়ের সংবর্ধনায় পারফর্ম করেন জনপ্রিয় গায়িকা এলি গোল্ডিং। পরদিন পায়জামা-থিমযুক্ত ব্রাঞ্চে গান করেন উশার। এমন তারকাখচিত সংগীতানুষ্ঠান বিয়েটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
লরেন সানচেজ বিয়েতে পরেছিলেন ডলস অ্যান্ড গাব্বানা ডিজাইন করা একটি হাই-নেক, লম্বা হাতার লেইস গাউন। ভোগ ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, এই গাউন তৈরি করতে লেগেছিল ৯০০ ঘণ্টারও বেশি সময়। গাউনটির ফ্লেয়ার্ড স্কার্ট, লম্বা ওড়না এবং বোতামে ভরা টাইট কোমর অংশ ছিল চোখে পড়ার মতো।
ব্যক্তিগত ছোঁয়া ও কাস্টম আনুষাঙ্গিক
বিয়ের সপ্তাহান্তে সানচেজ পরেছিলেন বেশ কিছু কাস্টম আনুষাঙ্গিক। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল একটি কালো কাঁচের ক্লাচ ব্যাগ, যেখানে রূপালী রত্ন দিয়ে লেখা ছিল ‘মিসেস বেজোস’। এই ছোট কিন্তু ব্যক্তিগত ছোঁয়াগুলো তাদের নতুন জীবনের আনন্দকেই তুলে ধরেছে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল শ্যাম্পেন বোতল নিয়ে কর্মীরা ভেন্যুতে প্রবেশ করছে, যার গলায় জ্বলছে স্পার্কলার। কোথাও আবার বিকিনি পরা নারীদের স্পার্কলার হাতে মোটরবাইকে চড়ে ঘুরতে দেখা যায়। সব মিলিয়ে দৃশ্য ছিল উৎসবমুখর ও কিছুটা অতিরঞ্জিত।
সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
তবে এই সব আয়োজন সবাই যে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে, তা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই পার্টিগুলোকে ‘অপ্রস্তুত’ এবং ‘বয়সের সঙ্গে মানানসই নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, এমন একটা সময় আসে যখন মানুষকে একটু থামতে হয়।
আরেকজন মন্তব্য করেন, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন যদি এমন পার্টিতে মেতে থাকেন, সেটা দেখাটা নাকি অস্বস্তিকর। আবার অনেকে বলছেন, অর্থ ও স্বাধীনতা থাকলে জীবন উপভোগ করার অধিকার সবারই আছে।
আলোচনার মাঝেও নিজেদের মতো করে জীবন
সমালোচনা আর প্রশংসা—দুটোই এখন জেফ বেজোস ও লরেন সানচেজের নিত্যসঙ্গী। তবুও সেন্ট বার্টসের এই ছুটি স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিল, তারা নিজেদের মতো করেই জীবন উপভোগ করতে চান। সুপারইয়টের ডেকে সূর্যাস্ত দেখা হোক বা নিকি বিচে নাচ—সবকিছুতেই তারা স্বচ্ছন্দ।
২০২৬ সালের শুরুটা তারা করছেন হাসি, আনন্দ আর বিলাসের মধ্যে দিয়ে। আর সেই মুহূর্তগুলোই এখন বিশ্বজুড়ে খবরের শিরোনাম হয়ে উঠছে।


