বলিউডে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—ফের কি স্যানন পরিবারে বিয়ের সানাই বাজতে চলেছে? বোন নূপুর স্যাননের বিয়ের আনন্দে যখন পরিবার-পরিজন, তখনই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন দিদি কৃতী স্যানন। সবুজ গাউনে অনবদ্য লুক, পাশে সাদা ব্লেজারে লন্ডনপ্রবাসী ব্যবসায়ী কবীর বাহিয়া—এই একটি ছবিই যথেষ্ট ছিল নেটদুনিয়ায় জল্পনা উসকে দিতে। ছবি দেখে নেটিজেনরা বলছেন, “নজর না লেগে যাক।” প্রশ্ন উঠছে, নূপুরের পর এবার কি কৃতীর পালা?
নূপুর স্যাননের বিয়েতে কৃতী–কবীরের ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত
সোশাল মিডিয়ায় নূপুর স্যাননের বিয়ের একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেন কবীর বাহিয়া। সেই ছবিগুলোর মধ্যেই একটি ফ্রেম আলাদা করে নজর কাড়ে। কৃতী ও কবীরের ঘনিষ্ঠ ভঙ্গি, স্বচ্ছন্দ হাসি আর একে অপরের পাশে থাকার স্বাভাবিকতা দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছেন—এই সম্পর্ক কেবল বন্ধুত্বে আটকে নেই। বিয়েবাড়ির উষ্ণ পরিবেশে তাঁদের রসায়ন যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও এই ছবি থেকেই কেউ কেউ বিয়ের ঘণ্টা শুনতে শুরু করেছেন, তবু দু’পক্ষের কেউই এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।
কৃতী স্যাননের প্রেমের গুঞ্জনের শুরু
গত বছর থেকেই বলিউডে কানাঘুষো চলছিল—কৃতী স্যানন নাকি প্রেম করছেন। আর সেই প্রেমিক নাকি তাঁর চেয়ে বয়সে কম। সময়ের সঙ্গে সেই গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। নাম উঠে এসেছে লন্ডনের তরুণ ব্যবসায়ী কবীর বাহিয়ার। বয়সের ফারাক প্রায় ৯ বছর হলেও তা নাকি তাঁদের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং দু’জনেই এই সম্পর্ক নিয়ে সিরিয়াস—এমনটাই বলছেন ঘনিষ্ঠ সূত্র।
কবীর বাহিয়া কে? প্রেমিকের পরিচয়
কবীর বাহিয়া শুধু ব্যবসায়ী নন, ক্রিকেট জগতের সঙ্গেও তাঁর নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। শোনা যায়, তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনি ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক, খেলাধুলায় পারদর্শিতা—সব মিলিয়ে কবীরের জীবনধারা বেশ প্রাণবন্ত। এই স্পোর্টস-লাভিং মানসিকতাই নাকি কৃতীর সঙ্গে তাঁর মিল বাড়িয়েছে। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও দু’জনেই সময় বের করে একে অপরের পাশে থাকেন।
নূপুর স্যাননের হাত ধরেই পরিচয়
এই প্রেমকাহিনির শুরু নাকি নূপুর স্যাননের হাত ধরেই। বোনের মাধ্যমেই কৃতীর সঙ্গে কবীরের পরিচয়। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব রূপ নেয় গভীর সম্পর্কে। পরিবারের কাছের মানুষ হওয়ায় কবীর স্যানন পরিবারের অন্দরমহলেও স্বচ্ছন্দ—এমনটাই শোনা যাচ্ছে। নূপুরের বিয়েবাড়িতে সেই স্বচ্ছন্দতার ছাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
লন্ডন যাত্রা ও ঘনঘন দেখা
কাজের ফাঁকে ফাঁকে কৃতী নাকি লন্ডনে উড়ে যান কবীরের সঙ্গে সময় কাটাতে। আবার কখনো দিল্লি বিমানবন্দরে, কখনো শহরের রাস্তায়—হাত ধরে হাঁটার ছবি ভাইরাল হয়েছে। এই প্রকাশ্য উপস্থিতিগুলোই বিয়ের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। দিল্লিতে কবীরের বাবা-মায়ের বসবাস, পরিবারকেন্দ্রিক ভাবনা—সব মিলিয়ে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, শিগগিরই সুখবর আসতে পারে।
হোলির রঙে প্রেমের রং
গত বছর হোলিতে কবীরের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি কৃতী নিজেই শেয়ার করেছিলেন। রঙিন আবহে তাঁদের হাসিমুখ দেখে অনুরাগীরা তখনই বুঝেছিলেন, বিষয়টা নিছক বন্ধুত্ব নয়। সেই সময় থেকেই গুঞ্জনের পালে হাওয়া লাগে। এরপর একের পর এক ছবি, একসঙ্গে ভ্রমণ—সবই সম্পর্কের গভীরতার ইঙ্গিত দেয়।
বিয়ের জল্পনা ও বাস্তবতা
একসময় শোনা গিয়েছিল, ২০২৫ সালের শেষ দিকে নাকি কৃতী–কবীর বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। কিন্তু সময় গড়ালেও সেই খবর বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং স্যানন পরিবারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে নূপুরের বিয়ে। তবে সেই বিয়েবাড়িতেই কৃতী ও কবীরের সম্পর্ক যেন আরও পরিণত হয়েছে। ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, চার হাত এক হওয়ার পথে তাঁরা ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবেই এগোচ্ছেন।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
সোশাল মিডিয়ায় এই সম্পর্ক নিয়ে উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। কেউ বলছেন, “জুটি দারুণ মানিয়েছে।” কেউ আবার সাবধানী হয়ে লিখছেন, “নজর না লেগে যাক।” ছবির খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ, পোশাকের রং থেকে দেহভঙ্গি—সব নিয়েই চলছে আলোচনা। তবু কৃতী কিংবা কবীর কেউই এখনো বিয়ে নিয়ে সিলমোহর দেননি।
কৃতী স্যাননের অবস্থান
কৃতী বরাবরই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংযত। কাজের বাইরে খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন না। তাই এই সম্পর্ক নিয়েও তিনি নীরব। তবে তাঁর চোখেমুখের স্বস্তি আর আত্মবিশ্বাস অনেক কিছুই বলে দেয়—এমনটাই মনে করছেন অনুরাগীরা। ক্যারিয়ারে সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুখকেও যে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটাই হয়তো সবচেয়ে বড় খবর।
শেষ কথা
জল্পনা যতই থাকুক, সত্যিটা একটাই—কৃতী স্যানন ও কবীর বাহিয়া এখন একে অপরের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের সানাই ঠিক কবে বাজবে, তা সময়ই বলবে। আপাতত নূপুরের বিয়েবাড়িতে ধরা পড়া সেই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলোই যথেষ্ট ছিল নতুন করে আলোচনা শুরু করার জন্য। বলিউডের এই প্রেমকাহিনি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে অনুরাগীরা।


