বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহা আলি খান—নবাব পরিবারের কন্যা, মনোরম রূপে ও প্রতিভায় যিনি দর্শকের মন জয় করেছেন। কিন্তু গ্ল্যামার ও আভিজাত্যের আড়ালে তাঁর জীবনের এক কঠিন অধ্যায় লুকিয়ে রয়েছে। অনেকে হয়তো বিশ্বাসই করতে পারবেন না যে নবাব পরিবারের এই কন্যাকে জীবনের এক পর্যায়ে ভাড়া দিতে হিমশিম খেতে হয়েছিল। আসুন জেনে নেওয়া যাক তাঁর সংগ্রামী জীবনের অজানা অধ্যায়।
সোহা আলি খানের জন্ম এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তাঁর বাবা মনসুর আলি খান পতৌদি ছিলেন প্রখ্যাত ভারতীয় ক্রিকেটার এবং মা শর্মিলা ঠাকুর বলিউডের এক কিংবদন্তি অভিনেত্রী। এমন একটি ঐশ্বর্যশালী পরিবারে জন্ম নিয়েও সোহাকে সাধারণ মানুষের মতো আর্থিক লড়াই করতে হয়েছিল।
তিনি নিজেই জানিয়েছেন, জীবনের এক পর্যায়ে মাসিক ভাড়ার টাকা জোগাড় করাই হয়ে দাঁড়িয়েছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অভিনয়ে আসার আগে সোহা আলি খান ছিলেন একজন কর্পোরেট কর্মী। তিনি লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স অ্যান্ড পলিটিকাল সায়েন্স থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর এক বহুজাতিক ব্যাঙ্কে চাকরি শুরু করেন। কর্মসূত্রে তিনি চলে আসেন মুম্বইয়ে এবং শুরু হয় নতুন জীবনের গল্প।
তখন তাঁর মাসিক বেতন থেকে বড় অংশটাই খরচ হয়ে যেত ভাড়ার পেছনে। ভাড়া ছিল মাসে প্রায় ১৭ হাজার টাকা। বছরের হিসাবে যা দাঁড়াত ২ লক্ষ ৪ হাজার টাকা। অথচ তাঁর বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। ফলে সঞ্চয় করার মতো কিছুই থাকত না।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন—নবাব পরিবারের মেয়ে হয়েও কেন এত কষ্টের জীবন বেছে নিলেন সোহা? অভিনেত্রীর জবাব ছিল সরল, “আমি স্বাধীন জীবনযাপন করতে চেয়েছিলাম। নিজের রোজগার করলে সিদ্ধান্তও নিজেই নেওয়া যায়, অন্য কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না।”
স্বাধীনতার এই আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে গড়ে তুলেছিল শক্ত মানসিকতার মানুষ হিসেবে। পরিবারের আভিজাত্যের আড়ালে তিনি বেছে নিয়েছিলেন সাধারণ জীবনের স্বাদ, যেখানে প্রতিদিনই ছিল দায়িত্ব ও সংগ্রাম।
ব্যাংকের চাকরি করতে করতেই সোহা বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর আসল জায়গা সিনেমার জগৎ। তবে অভিনয়জগতে প্রবেশের সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না। বাবা-মা তাঁর এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন কি না, সে নিয়ে দোটানায় ছিলেন তিনি। তবুও, চাকরির অভিজ্ঞতা তাঁকে আর্থিকভাবে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। তাই অভিনয়জগতে প্রবেশের বিষয়ে তিনি ছিলেন অটল।
সোহা আলি খান বারবার উল্লেখ করেছেন যে স্বাধীনভাবে রোজগার করলেও পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া সুরক্ষা ও সমর্থন তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। তাঁর ভাষায়, “আমি উপার্জন করছিলাম ঠিকই। তবে প্রয়োজনে বাবা-মায়ের সাহায্য নিতে পারতাম। এই সুবিধা সবার জীবনে আসে না। তাই সেটা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল।”
আজ সোহা আলি খান সফল অভিনেত্রী, লেখক এবং গৃহিণী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু তাঁর সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে সেই কঠিন দিনগুলোর শিক্ষা। ভাড়ার টাকার চিন্তা থেকে শুরু করে স্বাধীন জীবনযাপনের সংগ্রাম—সবই তাঁকে গড়ে তুলেছে দৃঢ়চেতা একজন নারী হিসেবে।
সোহা আলি খানের গল্প শুধু একজন বলিউড তারকার জীবনের আভিজাত্য নয়, বরং স্বাধীনতা আর আত্মসম্মানের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি সাধারণ জীবন বেছে নিয়ে প্রমাণ করেছেন, স্বপ্ন পূরণে সাহস ও আত্মনির্ভরশীলতা সবচেয়ে বড় শক্তি।


