বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন মানেই ভক্তদের কৌতূহল, জল্পনা আর নানা গুঞ্জন। আর সেই তালিকায় মালাইকা আরোরার নাম থাকলে আলোচনা আরও একটু বেশি হয়। আরবাজ খানের সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার পর থেকেই মালাইকার প্রেম, সম্পর্ক আর দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। অবশেষে এসব জল্পনার মাঝেই নিজের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার করে দিলেন এই অভিনেত্রী।
আরবাজ খানের সঙ্গে বিচ্ছেদ এবং পরবর্তী জীবন
২০১৬ সালে মালাইকা আরোরার সঙ্গে আরবাজ খানের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়। দীর্ঘ সময়ের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানাটা যে সহজ ছিল না, তা আগেও একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন মালাইকা। তাদের একমাত্র সন্তান, ২২ বছরের ছেলে আরহান খানকে ঘিরেই এখনও দুজনের মধ্যে রয়েছে সুস্থ সম্পর্ক।
বিচ্ছেদের পরও সন্তানের বাবা-মা হিসেবে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টি মালাইকার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অনেক সম্পর্ক ভাঙলেও দায়িত্ববোধ ভাঙে না—মালাইকা ও আরবাজ তারই বাস্তব উদাহরণ।
বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আফসোস নেই মালাইকার
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মালাইকা খোলাখুলি কথা বলেন তার ব্যক্তিগত জীবন, বিচ্ছেদ এবং সমাজের চোখে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিয়ে। তার কথায়, সম্পর্ক সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয় না। অনেক চেষ্টা করলেও কিছু সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টেকে না।
মালাইকা জানান, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাকে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। পরিবার, সমাজ, পরিচিত মানুষ—সব দিক থেকেই এসেছে নানা মন্তব্য। তবুও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই।
তার মতে, নিজের জীবনের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হয়। অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে যদি নিজের সুখ হারিয়ে যায়, তাহলে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কোনো মানে হয় না।
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা করেছিলেন মালাইকা ও আরবাজ
মালাইকা স্পষ্ট করে বলেন, বিচ্ছেদ কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল না। তিনি ও আরবাজ দুজনেই সম্পর্কটা বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। সমস্যা মেটানোর কথা ভেবেছিলেন, আবার একসঙ্গে নতুন করে শুরু করার চেষ্টাও করেছিলেন।
কিন্তু একটা সময় এসে দুজনেই বুঝতে পারেন, এই সম্পর্ক আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তখনই তারা সিদ্ধান্ত নেন আলাদা পথে হাঁটার।
মালাইকার ভাষায়, একটা সম্পর্ক তখনই টিকে থাকে, যখন দুজন মানুষই সেখানে সুখী থাকে। আর যখন সুখটাই হারিয়ে যায়, তখন আলাদা হওয়াই হয়তো সবচেয়ে সঠিক পথ।
‘নিজেকে খুশি রাখাই সবচেয়ে জরুরি’—মালাইকার জীবনদর্শন
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অনেকেই মালাইকার দিকে আঙুল তুলেছিলেন। কেউ তাকে স্বার্থপর বলেছেন, কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন একজন মা হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক কি না।
কিন্তু এসব মন্তব্যে কান দিতে নারাজ মালাইকা। তার কাছে নিজের মানসিক শান্তি আর ভালো থাকাটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, অন্যের চোখে আমাকে স্বার্থপর মনে হতেই পারে। কিন্তু আমি জানি, আমার জন্য কী ঠিক ছিল। নিজের খুশিটা হারিয়ে বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই।
এই ভাবনাটাই আজকের মালাইকার জীবনের মূল ভিত্তি। নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ় থাকা, নিজের মতো করে জীবন বেছে নেওয়াই তার কাছে আসল সাফল্য।
দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন মালাইকা?
সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা ঘুরে ফিরে আসে, তা হলো—মালাইকা কি আবার বিয়ে করবেন? এই প্রশ্নের উত্তরও এবার স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
মালাইকা জানান, তিনি বিয়ের বিরোধী নন। বিয়ে বা সম্পর্ক নিয়ে তার কোনো নেতিবাচক মনোভাব নেই। তবে এই মুহূর্তে দ্বিতীয় বিয়ে তার অগ্রাধিকার নয়।
তার কথায়, এখন নিজের জীবন নিয়ে তিনি ভালো আছেন। কাজ, পরিবার, বন্ধু আর নিজের সময়—সব মিলিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। এই মুহূর্তে নতুন করে বিয়ের কথা ভাবার প্রয়োজন তিনি অনুভব করছেন না।
ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলা মনেই ভাবছেন অভিনেত্রী
তবে মালাইকা এটাও স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যতে কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। জীবন অনেক সময় অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। যদি কখনো আবার বিয়ের কথা আসে, তখন পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এই বাস্তববাদী মনোভাবই মালাইকার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি কোনো চাপের কাছে মাথা নত করতে চান না। সমাজ কী ভাবছে, মানুষ কী বলছে—এসবের চেয়ে নিজের অনুভূতিকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।
মালাইকার গল্প কেন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা
মালাইকা আরোরার জীবন শুধু একজন বলিউড অভিনেত্রীর গল্প নয়। এটি এমন এক নারীর গল্প, যিনি নিজের সুখকে গুরুত্ব দিতে শিখেছেন। ভুল সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সাহস দেখিয়েছেন। সমাজের প্রশ্ন, সমালোচনা সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন।
অনেক নারীই সম্পর্ক, সংসার আর সমাজের চাপে নিজের ইচ্ছেকে চাপা দিয়ে রাখেন। মালাইকার বক্তব্য তাঁদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে। তিনি দেখিয়েছেন, জীবন মানে শুধু দায়িত্ব নয়, নিজের ভালো থাকাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


