প্রেমিকার মন জয় করতে মানুষ কত কিছুই না করে, কিন্তু নাসার শিক্ষানবিশ বিজ্ঞানী থাড রবার্টস যা করেছিলেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে একেবারে অনন্য। তাঁর স্বপ্ন ছিল প্রেমিকার সঙ্গে চাঁদের মাটিতে যৌন মিলন করা—এবং সেই স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি করলেন চন্দ্রশিলা চুরির মত দুঃসাহসিক অপরাধ।
২০০২ সাল। মাত্র ২৪ বছর বয়সী থাড রবার্টস নাসায় ইন্টার্ন হিসেবে কর্মরত। প্রেমিকা টিফানি ফাউলার এবং আরও দুই সহযোগী—শে সাউয়ার ও গর্ডন ম্যাকওয়ার্টার—মিলে তারা তৈরি করে এক চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনা। উদ্দেশ্য: নাসার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য থেকে চাঁদের পাথর চুরি করে প্রেমিকার সঙ্গে সেই চাঁদের মাটিতে প্রতীকী যৌন অভিজ্ঞতা নেওয়া।
রবার্টস নাসার সিকিউরিটি ক্যামেরা হ্যাক করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাইপাস করেন। কর্মীদের জন্য ভুয়া নাসা ব্যাজ বানান, আর পরেন বিশেষ নিয়োপ্রিন বডিস্যুট—যা সাধারণত সাঁতারের জন্য ব্যবহৃত হয়। সব প্রস্তুতি শেষে তারা ‘মিশন’-এ নামে এবং সফলভাবেই নাসার ল্যাব থেকে ৭.৭ কেজি চন্দ্রশিলা চুরি করে নিয়ে যায়।
চুরি সফল হওয়ার পর রবার্টস চাঁদের পাথর বিছানায় সাজিয়ে দেন। তারপর প্রেমিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন—যেন তারা সত্যিই চাঁদের মাটিতে অবস্থান করছেন। রবার্টস পরবর্তীতে স্বীকার করেন, “এটা ছিল প্রতীকী—পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবার কেউ চাঁদে যৌনতায় লিপ্ত হলো।”
এই পাথরের বাজারমূল্য ছিল অবিশ্বাস্য—প্রতি গ্রাম ১০০০ থেকে ৫০০০ মার্কিন ডলার, মোট প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা। চুরির পর তারা বেলজিয়ামের এক শিল্পপতির কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করে।
শিল্পপতি সন্দেহ করে এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গোপন অভিযানের মাধ্যমে এফবিআই ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করে এবং অবশেষে পুরো চক্রটিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।থাড রবার্টস – ৮ বছরের কারাদণ্ড (২০০৮ সালে মুক্তি),টিফানি ফাউলার – ১৫০ ঘণ্টা সমাজসেবা, ১৮০ দিনের গৃহবন্দী, ৯,০০০ ডলার জরিমানা, শে সাউয়ার – একই শাস্তি, গর্ডন ম্যাকওয়ার্টার – ৬ বছরের কারাদণ্ড
কারাগারে থাকার সময় রবার্টস লিখেন ৭০০ পৃষ্ঠার বই “Einstein’s Intuition”। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পদার্থবিদ হিসেবে কর্মরত।
২০১১ সালে মার্কিন লেখক বেন ম্যাজরিক এই ঘটনা নিয়ে লেখেন বই “Sex On The Moon”, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এই গল্প প্রমাণ করে, প্রেম ও ফ্যান্টাসির টানে মানুষ কতদূর যেতে পারে—কখনও তা ইতিহাসে অমর হয়ে থাকে, আবার কখনও আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।


