খাবারের রেস্তরাঁয় সাধারণত মেনুকার্ডে থাকে সুস্বাদু খাবারের তালিকা আর বিভিন্ন পানীয়। কিন্তু এবার জলের জন্যও তৈরি হলো আলাদা মেনুকার্ড। চেশায়ারের এক বিলাসবহুল ফরাসি রেস্তরাঁ ‘লা পোপোতে’ নিয়ে এসেছে এই অভিনব উদ্যোগ। এখানে জলের দাম শুরু হচ্ছে ৫৮৫ টাকা থেকে প্রায় আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। বিষয়টি শুনে প্রথমেই প্রশ্ন আসে—জল তো সবার কাছেই এক! তাহলে এর এত ভিন্ন দাম কেন?
সাধারণত কোনো রেস্তরাঁয় খেতে গেলে জলের জন্য তিনটি বিকল্প থাকে, কলের পরিস্রুত জল,বোতলজাত মিনারেল ওয়াটার,এবং স্পার্কলিং ওয়াটার।
স্পার্কলিং ওয়াটার মূলত সাধারণ জলের মধ্যেই প্রাকৃতিক বা কৃত্রিমভাবে মিশে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস। ফলে এতে বুদবুদ ওঠে, তবে এটি সোডার মতো নয়। এতে কোনো চিনি বা ক্যাফিন থাকে না এবং মুখে ধাতব স্বাদও লাগে না।
তবে লা পোপোতে রেস্তরাঁ এই প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে জলের জন্য আলাদা মেনুকার্ড তৈরি করেছে। এ মেনুকার্ডে থাকছে সাত ধরনের প্রিমিয়াম ওয়াটার ব্র্যান্ড, যেগুলো এসেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন এবং পর্তুগাল থেকে। প্রতিটি জলের দাম আলাদা, কারণ তাদের স্বাদ ও গুণগত মান ভিন্ন।
জলের গঠন হয় মূলত দু’কণা হাইড্রোজেন আর এক কণা অক্সিজেন মিলিয়ে। তাহলে এর স্বাদ আলাদা হওয়ার কারণ কী? রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতিটি দেশের জলে খনিজের মাত্রা আলাদা হয়। এই খনিজ উপাদানই জলের স্বাদে পার্থক্য তৈরি করে।উদাহরণস্বরূপ, স্পেনের জলে খনিজ লবণের আধিক্য বেশি, আবার ফ্রান্সের জলে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেশি থাকতে পারে।
জল কীভাবে পরিবেশন করা হচ্ছে, সেটিও স্বাদের একটি বড় কারণ। লা পোপোতে সবসময় জল পরিবেশন করে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায়, সঙ্গে যোগ করে পাতলা লেবুর টুকরো।
এই বিশেষ জলের মেনুকার্ডের নেপথ্যে রয়েছেন গবেষক ডোরান বাইন্ডার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জল নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। তাঁর মতে, যেভাবে খাবারের সঙ্গে ওয়াইনের স্বাদ পরিবর্তিত হয়, তেমনি বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে জলের স্বাদও ভিন্ন হয়ে ওঠে।
লা পোপোতে-তে রয়েছে প্রায় ১৪০ রকমের ওয়াইনের তালিকা। যারা মদ্যপান করেন না, তাদের জন্যই বিকল্প হিসেবে সাজানো হয়েছে এই জলের মেনু।
বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও পানীয়প্রেমীদের কাছে এই মেনুকার্ড এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মিশেলিন তালিকাভুক্ত রেস্তরাঁ হিসেবে লা পোপোতে সবসময়ই আলাদা মর্যাদার অধিকারী। তাই তাদের এই পদক্ষেপকে শুধু অভিনবত্ব নয়, বরং এক নতুন খাদ্য সংস্কৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।প্রতিটি জলের নিজস্ব খনিজ উপাদান, দেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, পরিবেশনের ধরন, আর খাবারের সঙ্গে তার সমন্বয়—এই সব মিলিয়েই নির্ধারিত হয় জলের দাম।
অতএব, যারা শুধু খাবার নয় বরং তার সঙ্গে প্রতিটি উপাদানের স্বাদকে গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য এই অভিজ্ঞতা সত্যিই ব্যতিক্রমী।
লা পোপোতে-র জলের মেনুকার্ড প্রমাণ করে দিয়েছে—জল শুধু পিপাসা নিবারণের উপকরণ নয়, বরং এটি হতে পারে এক বিশেষ গ্যাস্ট্রোনমিক অভিজ্ঞতা। ভিন্ন দেশের ভিন্ন উৎস থেকে আসা জলের স্বাদ মিলিয়ে খাবার পরিবেশন করা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং একটি নতুন কুলিনারি ট্রেন্ড।
👉 তাই হয়তো আগামী দিনে শুধু খাবার নয়, পানীয়ের তালিকার পাশাপাশি “জলের মেনুকার্ড”-ও হয়ে উঠবে বিশ্বব্যাপী উচ্চমানের রেস্তরাঁগুলোর একটি নতুন পরিচিতি।


