বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য, ডেনমার্কের চিড়িয়াখানা চায় মানুষের পোষ্য প্রাণী – বাঘ-সিংহের খাবার হিসেবে!
পোষা প্রাণী বলতে আমরা সাধারণত বুঝি পরিবারের সদস্যের মতো ভালোবাসার বস্তু। কিন্তু ডেনমার্কের আলবর্গ চিড়িয়াখানা এবার এক এমন ঘোষণা দিয়েছে, যা শুনলে রীতিমতো চমকে উঠবেন! তারা জানিয়েছে, যারা আর নিজেদের পোষ্য প্রাণী রাখতে চান না, তারা চাইলে সেই পোষ্য প্রাণীগুলো দান করতে পারেন, তবে তা চিড়িয়াখানার শিকারি পশুদের খাবার হিসেবেই ব্যবহৃত হবে।
চিড়িয়াখানার যুক্তি: শিকারি প্রবৃত্তিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা
আলবর্গ চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তাদের এই ব্যতিক্রমী আহ্বানের পেছনে একটি প্রাকৃতিক ও প্রাণিবিদ্যাগত কারণ তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, চিড়িয়াখানার বাঘ, সিংহ, চিতা প্রভৃতি শিকারি প্রাণীদের স্বাভাবিক শিকারের প্রবৃত্তিকে জিইয়ে রাখতে এবং মানসিকভাবে সক্রিয় রাখতে এই ধরণের খাদ্যতালিকার প্রয়োজন।
তাদের মতে, শুধুমাত্র প্যাকেটজাত মাংস দিলে ওই প্রাণীগুলোর প্রাকৃতিক শিকার দক্ষতা নষ্ট হয়ে যায়, যা তাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে।
কী ধরণের পোষ্য চায় চিড়িয়াখানা? সুস্থ প্রাণী হলেই চলবে
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুকুর, বিড়াল, খরগোশ, গিনিপিগ এমনকি ছাগল বা ঘোড়াও যদি কেউ আর রাখতে না চান, তাহলে সেই সুস্থ প্রাণীগুলো দান করা যেতে পারে। তবে শর্ত একটাই — প্রাণীটি অবশ্যই সুস্থ হতে হবে।
অর্থাৎ, যদি কারও পোষ্যটি অসুস্থ বা মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে থাকে, তাহলে তারা সেটিকে গ্রহণ করবে না।
‘দান করা’ পোষ্যদের হবে করুণ পরিণতি: খাদ্য তালিকায় নাম লেখাবে তারা
যেসব পোষ্য প্রাণী এইভাবে চিড়িয়াখানায় ‘দান’ করা হবে, তারা সরাসরি চলে যাবে শিকারি পশুদের খাদ্য তালিকায়। বাঘ, সিংহ, চিতা প্রভৃতি শিকারি প্রাণীরা তাদের খাবে— সরাসরি অথবা শিকারের অভিনয়ে, যা সম্পূর্ণ চিড়িয়াখানার নিয়মমাফিক কার্যক্রমের অংশ।
বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ও সমালোচনা: নৈতিকতা বনাম বাস্তবতা
এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে প্রাণীপ্রেমী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন –
- একটি পোষ্য কি শুধুই “খাদ্যদ্রব্য”?
- মানুষের সাথে থাকা প্রাণীর এমন নিষ্ঠুর পরিণতি কি আদৌ গ্রহণযোগ্য?
তবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মতে, এটি কোনো জবরদস্তিমূলক প্রক্রিয়া নয়। যারা নিজেদের পোষ্য রাখতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক, তাদের জন্য একটি বিকল্প মাত্র।
চিড়িয়াখানার দাবি বনাম প্রাণী সুরক্ষা নীতিমালা
অনেক দেশেই প্রাণী কল্যাণ আইনে বলা রয়েছে, কোনো প্রাণীকে অকারণে হত্যা বা নিগৃহীত করা আইনবিরুদ্ধ। ফলে এই চিড়িয়াখানার আহ্বান নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে – এটি কি ওই আইন লঙ্ঘন করছে না?
ডেনমার্কের পশু সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, একটি প্রাণীকে খাদ্য হিসাবে ব্যবহারের পূর্বে তার মৃত্যুপদ্ধতি যেন যন্ত্রণাহীন হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তবে পোষ্য প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি কি যথোপযুক্ত?
উদ্দেশ্যবিহীন পোষ্য পালনের ফলাফল? নাকি বিকল্প চিন্তা?
এই ঘটনার মাধ্যমে এক অন্য প্রশ্নও সামনে এসেছে –
বর্তমানে অনেকেই পোষ্য পালন করেন শুধুমাত্র শখের বশে। পরে যখন সময়, অর্থ বা আগ্রহের অভাব ঘটে, তখন সেই প্রাণীগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
চিড়িয়াখানার এই সিদ্ধান্ত হয়তো সেই বাস্তবতাকেই একভাবে তুলে ধরছে, যদিও তার পদ্ধতি বিতর্কিত।


