বাংলাদেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে সোনার মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস জানায়, ২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। এ সিদ্ধান্তে দেশের বাজারে সোনার দর রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণায় জানা গেছে, ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৪৭০ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৮ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের দামও সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দামের তালিকা নিচে দেওয়া হলো: ২২ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ১,৭৫,৭৮৮ টাকা, ২১ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ১,৬৭,৭৯৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ১,৪৩,৮২৮ টাকা, সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি ১,১৯,০৪২ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (Pure Gold) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারেও নতুন করে সোনার দাম বাড়াতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং আমদানি খরচ বৃদ্ধিও সোনার দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যেখানে সোনার দাম বেড়েছে, সেখানে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাজুসের নতুন তালিকা অনুযায়ী: ২২ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ২,৮১১ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ২,৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ২,২৯৮ টাকা, সনাতন পদ্ধতির রুপা: প্রতি ভরি ১,৭২৬ টাকা।
রুপার দাম না বাড়ানোর ফলে রুপার বাজার স্থিতিশীল থাকছে, তবে সোনার দামে ধারাবাহিক বৃদ্ধি অনেক ক্রেতাকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।
২০২৫ সালের আগস্ট মাসেই একাধিকবার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। সর্বশেষ ৩০ আগস্ট সোনার নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ৩১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। সেই দামের পর আবারও মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সোনার নতুন দর নির্ধারণ করা হলো। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মতে, এত দ্রুত দামের ওঠানামা সোনার বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।
সোনার দামে ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে গয়না ক্রেতারা চাপের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে সোনার গয়না কেনার পরিকল্পনা করা পরিবারগুলোকে এখন অতিরিক্ত বাজেট নির্ধারণ করতে হচ্ছে। অনেক ক্রেতা অপেক্ষার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, কারণ তারা আশা করছেন ভবিষ্যতে দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসবে।
অন্যদিকে, সোনার ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের কারণে স্থানীয় বাজারেও দ্রুত দামের পরিবর্তন হচ্ছে। তারা মনে করছেন, ডলারের দাম এবং আমদানি ব্যয় না কমলে সোনার বাজারে শিগগিরই স্থিতিশীলতা ফিরবে না।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্ববাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রা বিনিময় হারের পরিবর্তন আগামী মাসগুলোতে সোনার দামে আরও প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করছেন, যদি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তাহলে বাংলাদেশেও সোনার দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


