জ্যোতিষশাস্ত্রে শনি এমন এক গ্রহ, যার নাম শুনলেই অনেকের মনে ভয় কাজ করে। কিন্তু আসল সত্যিটা একটু আলাদা। শনি আসলে কর্মফলদাতা। আপনি যেমন কাজ করবেন, তেমন ফলই পাবেন। তাই শনি শুধু অশুভ নন, তিনি ন্যায়বিচারকও।
এবার শনি টানা ৪০ দিনের জন্য অস্তাচলে যাচ্ছে। এই সময়টাকে জ্যোতিষশাস্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। কারণ, শনি যখন অস্ত যায়, তখন তার ফলদানের গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে। অর্থাৎ যেসব ফল বা প্রভাব ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়, সেগুলো আরও গভীরভাবে অনুভূত হতে পারে।
বর্তমানে শনি অবস্থান করছে মীন রাশিতে। ফলে মীন রাশির জাতক-জাতিকারা সাড়ে সাতির প্রভাবের মধ্যেই রয়েছেন। আগামী ১৩ মার্চ শনি অস্ত যাবে এবং ২২ এপ্রিল পুনরায় উদিত হবে। এই দীর্ঘ ৪০ দিনের সময়কালে বিশেষ করে চারটি রাশির ক্ষেত্রে আর্থিক টানাপড়েনের আশঙ্কা বেশি। চলুন সহজ করে দেখে নিই, কারা বেশি সতর্ক থাকবেন।
শনির অস্ত দশা ও তার প্রভাব
শনি যখন অস্ত যায়, তখন তাকে দৃশ্যমানভাবে দুর্বল মনে করা হয়। তবে এই সময়েই জীবনে বাস্তবতার চাপটা একটু বেশি টের পাওয়া যায়। অর্থনৈতিক দিক থেকে পরিকল্পনার অভাব, হঠাৎ খরচ, আয় কমে যাওয়া—এসব সমস্যা সামনে আসতে পারে।
এই সময়টা একভাবে নিজের কাজ, ব্যয় ও সিদ্ধান্তগুলো নতুন করে যাচাই করার সুযোগও দেয়। তাই ভয় না পেয়ে সচেতন থাকাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
মেষ রাশি: খরচে লাগাম টানুন
মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই সময়টা অর্থনৈতিক দিক থেকে সংবেদনশীল। হঠাৎ করে খরচ বেড়ে যেতে পারে। অনেক সময় ছোটখাটো খরচগুলোই জমে বড় অঙ্কে দাঁড়ায়।
এখন সবচেয়ে জরুরি হলো ব্যয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন, আজ যেটা কিনতেই হবে বলে মনে হচ্ছে, সেটা হয়তো কয়েকদিন পর আর জরুরি মনে হবে না।
শুধু অর্থ নয়, স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিতে হবে। শরীর খারাপ হলে চিকিৎসার খরচও বাড়বে। তাই নিয়মিত বিশ্রাম নিন, খাবারদাবারে সচেতন থাকুন।
তুলা রাশি: বিনিয়োগে সাবধানতা প্রয়োজন
তুলা রাশির জাতকদের জন্য শনির অস্ত দশা আর্থিক সিদ্ধান্তে ধৈর্য ধরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সময় ঋণ দেওয়া বা নেওয়া—দুটোই এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ পরে সেটা ফেরত পেতে বা শোধ করতে সমস্যায় পড়তে পারেন।
নতুন বিনিয়োগ করার আগে কয়েকবার ভাবুন। বড় কোনও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এই সময় না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বরং সঞ্চয়ের দিকে মন দিন।
শারীরিক দিক থেকেও একটু সাবধান থাকতে হবে। অতিরিক্ত তেলমশলাদার খাবার পেটের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ছোট অসুস্থতা থেকেও অপ্রত্যাশিত খরচ বাড়তে পারে।
বৃশ্চিক রাশি: রাগ ও অর্থ—দুটোই সামলান
বৃশ্চিক রাশির ক্ষেত্রে শুধু আর্থিক নয়, পারিবারিক ক্ষেত্রেও চাপ বাড়তে পারে। অর্থ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।
এই সময় আবেগ দিয়ে নয়, যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। রাগের মাথায় কোনও আর্থিক সিদ্ধান্ত নিলে পরে আফসোস করতে হতে পারে। যেমন ধরুন, হঠাৎ কারও সঙ্গে ঝগড়া করে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেওয়া—এতে ভবিষ্যতে ক্ষতি হতে পারে।
বড় খরচের আগে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করুন। হিসেব করে চললে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মকর রাশি: আয় কম, ব্যয় বেশি—চিন্তার কারণ
মকর রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই সময়টা একটু চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হঠাৎ কিছু খরচ এসে পড়তে পারে, যা আগে থেকে ভাবেননি।
এই পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ বাড়তে পারে। কিন্তু আতঙ্কিত হলে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং খরচের তালিকা তৈরি করুন। কোথায় কমানো যায় দেখুন।
যদি সম্ভব হয়, অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন, বিলাসী খরচ বা অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ আপাতত স্থগিত রাখুন। সাময়িক সংযম ভবিষ্যতে স্বস্তি দেবে।
শনির প্রভাবে কীভাবে প্রস্তুত থাকবেন?
শনির অস্ত মানেই সব খারাপ হবে, এমন নয়। বরং এই সময়টা আপনাকে সচেতন করে তুলবে।
প্রথমত, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা পরিষ্কার রাখুন। আয়-ব্যয়ের হিসেব লিখে রাখলে অনেক সমস্যাই আগে থেকে বোঝা যায়।
দ্বিতীয়ত, আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
তৃতীয়ত, স্বাস্থ্যকে অবহেলা করবেন না।
মনে রাখবেন, শনি আসলে শাস্তি দেন না, শিক্ষা দেন। এই ৪০ দিনের সময়টা যদি ধৈর্য, সংযম আর পরিকল্পনা দিয়ে পার করতে পারেন, তাহলে পরে ফলও ভালো পাবেন।
শেষ কথা হলো—রাশি যাই হোক, সতর্ক থাকাই সবচেয়ে বড় সমাধান। সময়টা একটু ধীরগতির হতে পারে, কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে এই সময়ই ভবিষ্যতের ভিত্তি মজবুত করে দিতে পারে।


