জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন (জেসিএফ) এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আজাদুল কবির আরজু’র ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর মরদেহ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার স্বার্থে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দান করা হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টায় যশোর মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. শরিফুল আলম খানের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর দেহ হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের পক্ষে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন মরহুমের স্ত্রী মেরীনা আখতার, ভাই মোস্তফা কামাল ও কন্যা নিবেদিতা নার্গিস।
মরদেহ হস্তান্তরের আগে সকাল সাড়ে ৯টায় মুজিব সড়কস্থ জেসিএফ এর প্রধান কার্যালয়ে প্রয়াত আজাদুল কবির আরজু’র তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় জেসিএফ এর মাঠ পর্যায়ের ৫২টি জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রয়াত আজাদুল কবির আরজু’র প্রতি। জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ৪টি অঞ্চল ও ২৫টি জোন ছাড়াও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন- শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন, চরকা পরিবার, সিএসপি, সিএইচপি, এনজিও যশোর, জেসিএফ এর সাবেক সভাপতি জন. এস বিশ্বাস, ইউনাইটেড ফাইনান্স, সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস)-এর নির্বাহী পরিচালক ইমান আলী, স্বাধীন মহিলা সমিতি, জেসিএফ বিডি-১৭ প্রকল্প, মনিটরিং সেল, ব্যাংক এশিয়া, সুখি মহিলা উন্নয়ন সমিতি, ব্রাক ব্যাংক, বিএসআরএম, জেসিএফ ডিআরপি প্রকল্প, মৌমাছি স্কুল, যশোর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পরশমনি মহিলা উন্নয়ন সমিতি, গ্রীণ বাজার এবং জেসিএফ পরিবার।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) বাদ আসর জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন (জেসিএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মরহুম মো. আজাদুল কবির আরজু’র রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
মুজিব সড়কস্থ জেসিএফ প্রধান কার্যালয়ের পার্শ্ববর্তী মাঠে ও নারীদের জন্য সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই দোয়া মাহফিলে সকলকে শরিক হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের শেষ দিকে সমাজকে বদলে দেওয়ার ইচ্ছে নিয়ে যশোরের কয়েকজন যুবক জাগরণী চক্র নামে সংগঠনটি গড়ে তোলেন আজাদুল কবির আরজু। ১৯৭৬ সালে এটি সাংগঠনিক রূপ পায়। সংস্থার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তৎকালীন তরুণ সমাজকর্মী মো. আজাদুল কবির আরজু।
বর্তমানে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রায় ৮ হাজার কর্মী। দেশের ৫২ জেলায় প্রায় ১১ লাখ সুবিধাবঞ্চিত নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ মানুষের সঙ্গে কাজ করছে। দারিদ্র্যমুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যশোর থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি এখন দেশের অন্যতম প্রধান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।


