বেনাপোলের ছোট আঁচড়া গ্রামে মিজানুর রহমান মিজান (৫০) নামে এক কসাইকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ভোরবেলায় নিজ বাড়ির উঠানে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে হতবাক হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক আর শোকের ছায়া ফেলেছে।
নিহত মিজানুর রহমান বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আঁচড়া গ্রামের মৃত হানেফ সর্দারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে কসাইয়ের কাজ করতেন এবং পাশাপাশি গরু ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। গ্রামে সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবেই তিনি পরিচিত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মিজান গরু জবাইয়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হন। সাধারণত রাতেই তিনি এই কাজ শুরু করতেন। তবে সেদিন দীর্ঘ সময় পার হলেও দোকানে না পৌঁছানোয় দোকান মালিক আহমেদ তাকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোন বন্ধ পেয়ে তিনি সন্দেহ করেন এবং ভোরে একজন কর্মচারীকে ভ্যান নিয়ে মিজানের খোঁজে পাঠান।
মিজানের বাড়িতে গিয়ে কর্মচারী ডাকাডাকি শুরু করলে তার স্ত্রী বাইরে আসেন। তখন অন্ধকারে বাড়ির উঠানে তিনি দেখতে পান তার স্বামী মাটিতে পড়ে আছেন। কাছে যেতেই দেখা যায় মিজানের গলা কাটা। আতঙ্কিত স্ত্রী চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। সবার চোখের সামনে ফুটে ওঠে একটি ভয়াবহ দৃশ্য—মিজান রক্তাক্ত অবস্থায় নিথর হয়ে পড়ে আছেন।
খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, মিজানের গলাকাটা লাশ বাড়ির গেটের সামনে পড়ে ছিল এবং তার পাশে একটি ধারালো ছুরি পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। তবে এখনো মূল কারণ বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা স্পষ্ট নয়।


