যশোরের ই-কমার্স খাতে গত কয়েকদিন ধরে চলমান ‘চালডাল’ কর্মীদের বকেয়া বেতন সংক্রান্ত সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। কর্মী ও ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সমঝোতার পর বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
সম্মেলনে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানান, সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে যশোরে পুনরায় স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চালডালের সিওও মাহাবুব এমএম মুনতাসিন এবং কোম্পানির হেড অব মার্কেটিং লুসবুন উদিতি।
লিখিত বক্তব্যে সিওও মাহাবুব এমএম মুনতাসিন বলেন, “যশোর আমাদের কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। গত কয়েকদিন ধরে বেতন ও অভ্যন্তরীণ কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে কর্মীদের সাথে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তা নিরসন করেছি। কর্মীদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছি এবং পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে একটি সম্মানজনক সমঝোতায় পৌঁছেছি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফান্ডিংসহ কিছু জটিলতার কারণে বেতন প্রদানে সাময়িক বিলম্ব হয়েছিল। বর্তমানে বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে ফিরেছেন। আন্দোলনের কারণে কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না বলেও তিনি নিশ্চয়তা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে হেড অব মার্কেটিং লুসবুন উদিতি বলেন, “যশোরের সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় চালডাল আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাময়িক এই সংকটের কারণে আমাদের ডেলিভারি সেবা কিছুটা বিঘিœত হওয়ায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে আমরা আশ্বস্ত করছি, এখন থেকে গ্রাহকরা আগের চেয়েও দ্রæত এবং উন্নত মানের সেবা পাবেন।”
তিনি আরও জানান, সমঝোতার অংশ হিসেবে যশোরের ওয়্যারহাউসগুলোতে কাজের পরিবেশ উন্নয়ন এবং কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্থানীয় মিডিয়া ও সংবাদকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে সংকট সমাধানে সহযোগিতার কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা বকেয়া বেতনের সময়সীমা এবং ভবিষ্যতে এমন সংকটের পুনরাবৃত্তি রোধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। উত্তরে সিওও জানান, একটি শক্তিশালী টিম এই সমস্যা উত্তোরণে কাজ করছে। খুব তাড়াতাড়িই এ সমস্যা দূর হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চালডালের যুগ্ম পরিচালক শাহাদত হোসেন, আজিজুর রহমান জিকো, আন্দোলকারীদের মধ্যে বক্তব্য দেন ফেরদৌস আজমীর।



