যশোরের মণিরামপুরে এক কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। চলার পথে কিছু বুঝে উঠার আগেই আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড়ে দিচ্ছে কুকুর। এরইমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৪০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকীরা যশোর আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। কারো হাতে, কারো পায়ে, কারো উরুতে, কারো গালে কামড়ে দিয়েছে কুকুর।
এদিকে, গেলো দুই মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্যাবিস ভ্যাক্সিনের সরবরাহ নেই। বাধ্য হয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা বাজারের ফার্মেসি থেকে চড়া মূল্যে ভ্যাক্সিন কিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জানা যায়, রাস্তায় চলাচলকারি ইজিবাইক, ভ্যান, বাইসাইকেলে থাকা নারী-পুরুষদের উপর ক্ষ্যাপা কুকুরটি হামলে পড়ে কামড়ে দিচ্ছে। একটা কুকুরের কামড়েই এই আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কুকুরটি চলার পথে যাকে সামনে পেয়েছে তার উপর হামড়ে পড়ে কামড়িয়ে রক্তাক্ত করে দিয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলার পাড়দীয়া গ্রামের ভুক্তভোগী ইজিবাইক চালক মাহাবুবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে রাজগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ডিসপেন্সারী নামক মোড়ে যাত্রী উঠানোর সময় একটি ক্ষ্যাপা কুকুর আচমকা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ডানপায়ে কামড়িয়ে রক্তাক্ত করে দেয়।
এসময় ইজিবাইকে থাকা যাত্রী হাসানকেও কামড়িয়ে রক্তাক্ত করে। একই দিনে কুকুরের কামড়ে আহত হন উপজেলার ঝাঁপা গ্রামের রামপদ, মনোহরপুর গ্রামের খলিলুর রহমান, মনোহরপুর গ্রামের খলিলুর রহমান, নাছিমা বেগম, দুর্গাপুরের ফরিদা বেগম, রাফি ছাড়াও মশ্মিমনগর, গালদা, রাজগঞ্জ, কাশিপুর, ঘুঘুরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৬০ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে জুড়ানপুর গ্রামের সিনিয়া আকতার, রিফাত হোসেন, গালদা গ্রামের হোসেন আলী, দুর্গাপুর গ্রামের ফরিদা বেগম, রাফি হাসান, ফারাবী হোসেন, মনোহরপুর গ্রামের খলিলুর রহমান, নাছিমা বেগম, গোপালপুর গ্রামের আবু বক্কর, কাশিপুর গ্রামের বিষ্ণু দাস, সুমাইয়া খাতুন, ঘুঘুরাইল গ্রামের আব্দুস সামাদ, ঝাঁপা গ্রামের রামপদ দাস, শেখপাড়া খানপুর গ্রামের আমিনুর রহমান, মোবারকপুর গ্রামের তামিম হাসান, গালদা গ্রামের হোসেন আলী, রোহিতা গ্রামের আশিকুর রহমানসহ ৪০ জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপ কুমার বসু।
ভুক্তভোগী আশিকুর রহমান, আমিনুর রহমান, রামপদ, হাসানসহ অনেকেই আক্ষেপের সুরে বলেন, তাদের পারিবারিক অবস্থা ভাল না। হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, সেই আশায় তারা এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাজারের ফার্মেসি হতে ১৩শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফায়াজ আহমেদ ফয়সাল বলেন, দুই মাস ধরে ভ্যাকসিনের মজুদ শেষ হয়েছে। নতুন করে পাওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় আক্তার হোসেন জানান, এখনো কুকুরের কামড়ের রোগী আসতেই আছে। মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্্রাট হোসেন বলেন, জরুরীভাবে দুই’শ ভ্যাকসিনের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। রোববার হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।


