যশোর শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক ব্যবসায়ী পরিবার মুহূর্তেই সর্বস্বান্ত হয়ে গেলেন। শনিবার সকালে শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়া মোড়ে অবস্থিত নবাব মার্কেটের একটি দোকান ও গুদামে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে, আর দোকানের সব মালামাল ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও তার আগেই দোকান ও গুদামের ভেতরে থাকা সব মালামাল ছাই হয়ে যায়। স্থানীয় মানুষও ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান, তবে ক্ষয়ক্ষতি ঠেকানো যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী হাসিব ইমাম লালু জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি দোকানের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজনকে ডাকেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। কিন্তু আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, কয়েক কোটি টাকার মালামাল মুহূর্তে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
তার দোকান ও গুদামে মুদি সামগ্রী এবং মনোহরী মালামাল মজুত ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকার মালামাল ধ্বংস হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
ব্যবসায়ী লালু আরও জানান, দোকান ও গুদামে থাকা সম্পূর্ণ পণ্য ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন ব্যাংক লোন শোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। নিজের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর স্বপ্ন মুহূর্তে শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়রা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করেন, বাজার এলাকায় যথাযথ অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলে এত বড় ক্ষতি নাও হতে পারত।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সঠিক কারণ জানার জন্য তদন্ত চলছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা সরকারের সহযোগিতা আশা করছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড এড়াতে বাজার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি দোকানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা, নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইন চেক করা এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ নেওয়া হলে বড় ক্ষতি রোধ করা সম্ভব।


