যশোর শহরের শাহ আব্দুল করিম সড়কে অবস্থিত মৌমাছি স্কুলে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুষ্ঠিত হলো। মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় আড়াইশ’ শিশু শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছের চারা। শিক্ষার্থীরা হাতে চারা পেয়ে যেমন খুশি, তেমনি ভবিষ্যতে এই চারাগুলো রোপণ ও লালন করার স্বপ্নে ভরপুর হয়ে ওঠে।
ফল গাছ শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জড়িত। শিশুদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। ছোটবেলা থেকেই যদি তারা গাছের গুরুত্ব বুঝতে শেখে, তবে বড় হয়ে তারা সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারবে।
এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন আনন্দিত হয়েছে, তেমনি তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গাছ লাগানোর অনুপ্রেরণাও পাচ্ছে। এতে শুধু পরিবেশের উন্নয়নই নয়, ভবিষ্যতে পুষ্টিকর ফল উৎপাদনও সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক দীপঙ্কর দাশ। তিনি বলেন, “শিশুদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া মানে ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করা। এই গাছ একদিন ছায়া দেবে, ফল দেবে, আর পরিবেশকে রক্ষা করবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে শিশু সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মিলন রহমান শিশুদের স্বপ্ন ও কল্পনার সঙ্গে গাছের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। সমাজসেবক আব্দুল হালিম শিশুদের পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এছাড়া স্কুলের পরিচালক এসএম মাসুম বিল্লাহ ও প্রধান শিক্ষক সাগর বিশ্বাসও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেন।
প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনকে ঘিরে ভীষণ আনন্দ পেয়েছে। ছোট ছোট হাতে যখন তারা চারাগুলো ধরে, তখন তাদের চোখে ফুটে ওঠে এক বিশেষ উজ্জ্বলতা। অনেক শিক্ষার্থী গাছ বাড়ির আঙিনায় বা গ্রামে নিয়ে গিয়ে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানায়।
এমন আয়োজন শুধু শিক্ষার্থীদের আনন্দই দেয় না, বরং তাদের মনে দায়িত্ববোধ জাগায়। প্রতিটি শিশু যখন বলে—“এই গাছটা আমার,” তখন তারা গাছের সঙ্গে এক ধরনের আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।
যশোর অঞ্চলে সবুজ আন্দোলন ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুল, সংগঠন ও সরকারি উদ্যোগে গাছ লাগানো এবং পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচি চালু রয়েছে। মৌমাছি স্কুলের এই আয়োজনও তারই অংশ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ছোট বয়স থেকেই শিশুদের গাছের প্রতি আকৃষ্ট করলে ভবিষ্যতে তারা দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশকে সবুজায়নে এগিয়ে নিয়ে যাবে।


