যশোর শিক্ষা বোর্ডের বহুল আলোচিত চেক জালিয়াতি মামলা আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এবার এই মামলার প্রধান আসামি ও বহিষ্কৃত হিসাব সহকারী আব্দুস সালামকে আটক করেছে পুলিশ। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর অবশেষে বুধবার রাতে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রাসেলের নেতৃত্বে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে যশোর কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়। থানার ওসি আবুল হাসনাত জানিয়েছেন, দ্রুত আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে তাকে।
২০২১ সালের অডিট প্রতিবেদনে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আয়–ব্যয়ের হিসাবে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার গরমিল সামনে আসে তখন। তদন্তে জানা যায়, সরকারি ভ্যাট পরিশোধের জন্য ইস্যু করা নয়টি চেক জাল করে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
চেক জালিয়াতির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দ্রুত মামলা দায়ের করে। মামলায় তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়। দুদকের তদন্তে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু নয়টি চেক জালিয়াতিই নয়, পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত থেকে প্রায় সাত কোটি টাকার আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। আর এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে আব্দুস সালামের নাম।
দুদকের তদন্ত শেষে ২০২২ সালে বোর্ড কর্তৃপক্ষ আব্দুস সালামকে চাকরিচ্যুত করে। শুধু তাই নয়, তার এবং তার পরিবারের নামে পৌনে এক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ মেলে। দুদক জানিয়েছে, সরকারি চাকরিতে থেকে এমন বিপুল সম্পদ অর্জন বৈধ নয়। এ কারণে তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।


