যশোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি রুপা ও বিদেশি মদসহ চারজন পাচারকারীকে আটক করেছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের অবৈধ মালামাল উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে যশোর সদর উপজেলার দাইতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল আনুমানিক ৫টার দিকে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর একটি টহল দল ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। এ সময় চারজন ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিকালে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ রুপা ও বিদেশি মদ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলেই তাদের আটক করে বিজিবি।
বিজিবি জানায়, আটককৃতদের কাছ থেকে মোট ১০ কেজি ৫০০ গ্রাম রুপা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক, একটি ঘড়ি এবং নগদ ৬ হাজার ২০৫ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
জব্দ করা সব মালামাল একত্রে হিসাব করলে এর আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬৫ লক্ষ ৮৯ হাজার ৭০৫ টাকা। এত বড় অঙ্কের চোরাচালান ধরা পড়ায় বিজিবির অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আটক চারজনের মধ্যে তিনজন সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার বাসিন্দা এবং একজন যশোর সদর উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ঝিকরা দক্ষিণ গ্রামের সন্তোষ কুমার রায়ের ছেলে তরুণ কুমার রায়, একই উপজেলার আলাইপুর উত্তর গ্রামের নূর হোসেন মোড়লের ছেলে শিমুল মোড়ল, উত্তর ভাদিয়ালী গ্রামের আলফাজ আলী সরদারের ছেলে শামীম হোসেন এবং যশোর সদর উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের আজিবার হোসেনের ছেলে আওয়াল হোসেন।
বিজিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক পাচারকারীরা স্বীকার করেছে, তারা ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে রুপা সংগ্রহ করে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করার পরিকল্পনা করছিল। সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এ ধরনের চোরাচালান চালিয়ে আসছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
যশোর ও সাতক্ষীরা সীমান্ত অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। রুপা, স্বর্ণ, মাদক, বিদেশি মদসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচারের চেষ্টা প্রায়ই ঘটে। এসব অপরাধ দমনে বিজিবি নিয়মিত টহল, অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন সব অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে, বিজিবি সীমান্তে চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দাইতলা বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে। স্থানীয়রা বলেন, ভোরের দিকে হঠাৎ বিজিবির অভিযান দেখে তারা প্রথমে কিছুটা আতঙ্কিত হলেও পরে জানতে পারেন চোরাচালানবিরোধী অভিযান চলছে।
অনেকে বলেন, সীমান্ত এলাকায় এমন অভিযান আরও জোরদার করা দরকার। এতে চোরাচালান কমবে এবং এলাকার নিরাপত্তাও বাড়বে।
বিজিবি জানায়, আটককৃত চারজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকৃত মালামাল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি এই চক্রের পেছনে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা আরও জানান, ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে, যাতে এ ধরনের পাচার চেষ্টার আগেই তা প্রতিহত করা যায়।


