যশোরের নওয়াপাড়ায় এক ব্যবসায়ীকে বালুতে পুঁতে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে সাবেক বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনিকে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা শহরের রোজ গার্ডেন হোটেল থেকে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জনিকে নিয়ে যৌথবাহিনী নওয়াপাড়ায় তার ইকো পার্কসহ একাধিক স্থানে অভিযান চালায়।অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জনি নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, দলীয় কোন্দল ও চাঁদাবাজির মতো একাধিক অভিযোগে তার পদ স্থগিত করা হয়।
২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে চক্রান্ত করে ইকো পার্কে ডেকে নিয়ে যায় আসাদুজ্জামান জনি। সেখানে তাকে বালুতে পুঁতে ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একাধিক দফায় চাঁদা দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী আসমা খাতুন অভিযোগ করেন, প্রথমে টিপুকে দুই কোটি টাকা দিতে বাধ্য করা হয়, যা সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক থেকে জনির প্রতিষ্ঠানের হিসাবে আরটিজিএসের মাধ্যমে পাঠানো হয়। টাকা পাওয়ার পর টিপুকে মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রথম ঘটনার কয়েক দিন পর, ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে টিপু যখন মোটরসাইকেলে বাজারে যাচ্ছিলেন, তখন সৈকত হোসেন হিরা তার পথরোধ করে। তাকে জনির মালিকানাধীন ইকো পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে সম্রাট হোসেন ও নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে টিপুকে বুক পর্যন্ত মাটি খুঁড়ে বালু চাপা দেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরও ২ কোটি টাকা দাবি করা হয়। ভয়ে টিপু তার ম্যানেজারকে ফোন করে টাকা প্রদানের নির্দেশ দেন।
মফিজ উদ্দিনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পূবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ টাকা এবং সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লাখ টাকা আরটিজিএস করা হয়।এছাড়া ১ কোটি টাকার একটি চেকও আদায় করা হয়।জনির নামে ৩টি এবং দিলিপ সাহার নামে ৩টি ১০০ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।ঘটনার পর কাউকে কিছু জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টিপুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার ১১ মাস পর, ২০২৫ সালের ২ আগস্ট অভয়নগর থানায় আসাদুজ্জামান জনিসহ ছয়জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়। একই অভিযোগ স্থানীয় সেনা ক্যাম্পেও জমা দেওয়া হয়।
পুলিশ ইতিমধ্যে মামলার দুই আসামি—ডিস ব্যবসায়ী মিঠু ও জনির বাবা কামরুজ্জামান—কে গ্রেপ্তার করেছে।
এ মামলার বাকি তিন আসামি—সম্রাট হোসেন, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দপ্তরী এবং সৈকত হোসেন হিরা—এখনও পলাতক। ওসি আব্দুল আলীম জানান, বাকিদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


