যশোর শহরের লালদিঘি পাড়ে অবস্থিত ব্রাদার টিটোস হোম স্কুলের আঙিনায় অনুষ্ঠিত হলো এক ভিন্নধর্মী আয়োজন। শনিবার বিকেলে স্কুল চত্বরে শিক্ষার্থী আর তাদের অভিভাবকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বিটিএইচ পাঞ্জা লড়াই।
ভাদ্র মাসের গরম বিকেলে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের চোখেমুখে ছিল উত্তেজনা আর দর্শকদের কণ্ঠে শোরগোল। কব্জি আর বাহুবলের শক্তির সমন্বয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা যখন জয়ের চেষ্টা করছিলেন, তখন দর্শকদের উচ্ছ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলছিল পরিবেশকে।
এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় মোট ৩২ জন শিক্ষার্থী ও ৮ জন অভিভাবক। দিনভর চলে নানা রাউন্ডের লড়াই। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী, বাবা ও মায়েদের আলাদা ক্যাটাগরিতে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট, সঙ্গে মজার পুরস্কার হিসেবে মোরগ, ডিম ও কলা। আয়োজন পরিচালনা করেন স্কুলের অধ্যক্ষ আলী আজম টিটো।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ১ম শ্রেণির তানজিন আলম। দ্বিতীয় হয়েছেন একই শ্রেণির উজ্জয়নী দাস এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন কেজি শ্রেণির বিবেক দাস।

বাবাদের বিভাগে প্রথম হয়েছেন কেজি শ্রেণির শিক্ষার্থী তাফসিরের বাবা মেরিন উজ্জামান। দ্বিতীয় হয়েছেন আদৃতা গাইনের বাবা সৌমেন গাইন এবং তৃতীয় হয়েছেন শিক্ষার্থী আমিরের বাবা সোহাইল হোসেন।
মায়েদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থী উজ্জয়নী দাসের মা ফাল্গুনী দাস। দ্বিতীয় হয়েছেন নার্সারির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ’র মা খুসনুদা এবং তৃতীয় হয়েছেন কেজির শিক্ষার্থী আরহাম খানের মা বর্ষা খান।
পুরো প্রতিযোগিতা জুড়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক আর দর্শকদের উপস্থিতি স্কুল আঙিনাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে সারাক্ষণ পাশে ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন—মাকসুদা জাবিন, জোহরা আক্তার, সাহানা হক, ফারজানা সুলতানা, ওয়াহিদা আহমেদ, ফাহমিদা ইসলাম, মিথিলা জাহান, লামিয়া সাজুনা, জান্নাতুল ফেরদৌস, তাবাসসুম তাহেরী ও নুরজাহান আফরিন।
এই ব্যতিক্রমী পাঞ্জা লড়াই শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, অভিভাবকদেরও এক মঞ্চে এনে দিয়েছে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে হাসি-আনন্দে ভরা একটি দিন কাটাল সবাই।


