বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অথচ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা আজও মর্যাদার সংকটে ভুগছেন। তাদের এন্ট্রি পদ এখনো ১১তম গ্রেডে সীমাবদ্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠেছে। এই বৈষম্য নিরসনের দাবিতে যশোরে শিক্ষকদের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক মানববন্ধন কর্মসূচি, যেখানে গেজেটেড মর্যাদা তথা ৯ম গ্রেড বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।
বুধবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন যশোর জিলা স্কুল ও যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিক্ষকদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে লেখা ছিল—“৯ম গ্রেড বাস্তবায়ন চাই” , “শিক্ষক মর্যাদা নিশ্চিত করো”, “বৈষম্যের অবসান ঘটাও”
শিক্ষকরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়ে দাবি তুলে ধরেন, যাতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং শিক্ষক সমাজকে প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি চরম বৈষম্যের শিকার। অন্যান্য সরকারি সেবায় সমমানের চাকরিগুলো অনেক আগেই গেজেটেড মর্যাদা পেলেও শিক্ষকরা এখনো বঞ্চিত।
যশোর জিলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক গাজী আজিজুর রহমান বলেন, “শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। অথচ আমরা এখনও বৈষম্যের শিকার। আমাদের দাবি ন্যায্য, তাই ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণ ছাড়া কোনো সমাধান নেই।”
যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “গেজেটেড মর্যাদা প্রতিষ্ঠা শুধু শিক্ষকদের জন্য নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন।”
অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিন আহমেদ ও রাজু বিশ্বাস বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা অবহেলিত। এখনই সময় এই বৈষম্য দূর করার।”
শিক্ষকরা মনে করছেন, ৯ম গ্রেড বাস্তবায়ন হলে—শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বাড়বে।শিক্ষাক্ষেত্রে দক্ষতা ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট হবেন।শিক্ষকদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে।সমমানের অন্যান্য সরকারি চাকরির সঙ্গে শিক্ষকদের বৈষম্য দূর হবে।
মানববন্ধনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উঠে আসে—চার স্তরের একাডেমিক পদ সোপান। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা ক্রমান্বয়ে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন, যা তাদের পেশাগত দক্ষতা ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যশোরের এই মানববন্ধন কেবল একটি জেলার কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি জাতীয় দাবি হয়ে উঠছে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একমত হয়েছেন যে, তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন সারা দেশের আন্দোলন। তারা সতর্ক করেছেন, দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।


