সিঙ্গিয়া রেলস্টেশনের গুরুত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতি
যশোর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জংশন সিঙ্গিয়া রেলস্টেশন, যা পদ্মাসেতু রেল প্রকল্প চালু হওয়ার পর নতুন মাত্রা পেয়েছে। খুলনা থেকে ঢাকাগামী জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেন এখন সিঙ্গিয়া-পদ্মবিলা হয়ে পদ্মাসেতু পেরিয়ে চলাচল করছে, ফলে এই স্টেশনটিতে যাত্রীচাপ ও গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের ফ্যান ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম হঠাৎ করে খুলে নেওয়ার ঘটনা রীতিমতো হতবাক করেছে সাধারণ যাত্রী ও রেলকর্মীদের।
বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক ফ্যান ও সরঞ্জাম খোলা: ঘটনাটি কীভাবে ঘটল?
গত শনিবার (তারিখ উল্লিখিত নয়), রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল সিঙ্গিয়া রেলস্টেশনের নতুন ভবন থেকে সকল ফ্যান ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- যাত্রী বিশ্রামাগারের ৮টি ফ্যান
- টিকিট কাউন্টারের ৩টি ফ্যান
- স্টেশন মাস্টার ও সহকারী স্টেশন মাস্টারের কক্ষের ৪টি ফ্যান
- ৫টি এডজাস্ট ফ্যান
- স্টেশন মাস্টারের কক্ষের এসির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়
এই ঘটনাটি ঘটে রেলওয়ের বিদ্যুৎ ও পরিবহণ বিভাগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে, যা এখন যাত্রীসাধারণের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ভোগে যাত্রীরা: প্রচণ্ড গরমে অমানবিক অবস্থা
এই ঘটনার পর থেকেই গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে যাত্রীরা রীতিমতো অসহ্য অবস্থায় পড়েছেন। বিশ্রামাগারে বসে থাকা সম্ভব নয়, ঘামে ভেজা যাত্রীদের জন্য ফ্যানহীন পরিস্থিতি স্বাস্থ্যঝুঁকিরও সৃষ্টি করছে। টিকিট কাউন্টার ও স্টেশন মাস্টারের অফিসেও বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একজন যাত্রী বলেন, “রেলস্টেশনে বিশ্রামের জন্য বসে থাকার জায়গা আছে, কিন্তু সেখানে গরমে দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমরা কোথায় যাব?” এমন পরিস্থিতিতে রেলওয়ের নিরবতা ও অবহেলা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছে।
রেলওয়ের বিভাজন ও প্রশাসনিক জটিলতা
রেলওয়ের ভেতরে বিভিন্ন বিভাগ যেমন বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবহণ বিভাগ, নিরাপত্তা বিভাগ— প্রত্যেকেই আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর অধীন। ফলে এক বিভাগের সিদ্ধান্তে আরেক বিভাগ প্রভাবিত হলেও সমন্বয়ের অভাবে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনায় দেখা যায়:
- বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশে ফ্যান খুলে নেওয়া হয়েছে
- পরিবহণ বিভাগের অধীন স্টেশন মাস্টার সরঞ্জাম বুঝে নিতে অস্বীকৃতি জানান
- নিরাপত্তা বাহিনী বা জিআরপি ফাঁড়ির অনুপস্থিতির সুযোগে সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়
এই অবস্থায় রেলওয়ের শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের ভয়াবহ সংকট স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
স্টেশন মাস্টারের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া
স্টেশন মাস্টার কেএম রিয়াদ হাসান, যিনি এই স্টেশনের দায়িত্বে আছেন, জানান যে, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সরঞ্জাম বুঝে নিতে তাকে চাপ দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন কারণ সেটি তার অধিকার বা কর্তৃত্বের আওতাভুক্ত নয়।
তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে পাকশী বিভাগের পরিবহণ কর্মকর্তা হাসিনা খাতুনকে জানান, এবং সেই কর্মকর্তা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করেন।
এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগের জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁর স্ত্রীর মাধ্যমে জানানো হয় যে তিনি অসুস্থ এবং কথা বলতে পারবেন না।
প্রশাসনিক উদাসীনতা ও দায় এড়ানোর প্রবণতা
এই ঘটনায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এখনো পর্যন্ত, বরং দায়সারা মন্তব্য ও অভিযোগ প্রেরণেই সীমাবদ্ধ প্রশাসনিক তৎপরতা। সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠলেও উপযুক্ত কোনো সমাধান বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। এতে রেলওয়ের জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।


