যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন এবং যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালত বর্জন করেছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার দুই বিচারকের তিন এজলাসে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন শত শত বিচারপ্রার্থী। তবে আদালতের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিচারকরা এজলাসে উপস্থিত থেকে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অধিকাংশ মামলার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। আবার কিছু মামলায় বাদী ও আসামিপক্ষ নিজেদের বক্তব্য নিজেরাই উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু আইনজীবী না থাকায় কাঙ্ক্ষিত আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা। তিনটি আদালতে ১৯৬ টি মামলার কার্যাক্রমে ধাক্কা লেগেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত ৬৭টি মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল।
সকাল থেকে বিচারক ও বিচারপ্রার্থীরা উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন আইনজীবীরা। ফলে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন ৬৫টি মামলার তারিখ পরিবর্তন করেন। বাকি দুই মামলায় আসামিপক্ষের স্বজনেরা ভোটার আইডি কার্ড প্রদর্শন করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন নামঞ্জুর করেন।
এছাড়া বিচারক আইরিন পারভীনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতে ১৯টি মামলার কার্যক্রম নির্ধারিত ছিল। এ আদালতেও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন না। আসামিপক্ষের স্বজনেরা ৯টি মামলায় নিজেরাই বক্তব্য দেন। অপর ১০টি মামলার তারিখ পরিবর্তন করা হয়।
অন্যদিকে যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালতে ৫৬টি দেওয়ানি ও ৫৫টি ফৌজদারি মামলাসহ মোট ১১১টি মামলার দিন ধার্য ছিল। আইনজীবীরা অনুপস্থিত থাকলেও বাদী-বিবাদীপক্ষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সদস্যরাও মোতায়েন ছিলেন। এ আদালতে ৭০টি মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং বাকি ৪১টির তারিখ পরিবর্তন করা হয়।
এদিন আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত এক বিচারপ্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিচারক আর আইনজীবীদের দ্বন্দ্বে আমরা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছি। তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে। খরচ বাড়ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে। আমরা তো কোনো পক্ষ না, তাহলে আমাদের কেন ভোগ করতে হবে? এভাবে আর কতদিন চলবে বলেও আক্ষেপ করেন অনেকেই।
এ বিষয়ে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, সমিতি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে।
আইনজীবীরা চান না ওই দুই বিচারক যশোরে দায়িত্ব পালন করুন। বিষয়টি নিয়ে পূর্বে আলোচনা হলেও বিচার বিভাগ তাদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। দ্রুত ওই দুই বিচারকের অপসারণের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় আইনজীবীরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
আদালত বর্জনের এই কর্মসূচিতে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়লেও পরিস্থিতি সমাধানে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। দ্রুতই সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা।


