যশোরের ভবদহ অঞ্চলে নদী খনন প্রকল্পে ধীরগতি ও লুকোচুরির কারণে আগামী বর্ষা মৌসুমে ফের জলাবদ্ধতার পদধ্বনি শুনছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ভবদহ পানি নিস্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ।
এ সময় দ্রুত আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, টিআরএম চালুসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। নীল রতন ধর রোডস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল।
আগামী বর্ষা মৌসুমে ভবদহ অঞ্চলকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এগুলো হলো, ৮১ কিলোমিটার নদী খনন কাজের ক্ষেত্রে অন্য দিকের কাজ সংকুচিত করে হরি, তেলিগাতি নদী ২০ কিলোমিটার ও আপার ভদ্রার ২২ কিলোমিটার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন করতে হবে।
তাহলে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশিত হয়ে যাবে। দ্রুত প্রস্তাবিত টিআরএম বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প অনুমোদন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। ভবদহে স্লুইসগেটের ২১, ৯ ও ৩ ভেন্টের সকল গেট সচল করতে হবে। নতুন করে ৫টি পাম্প কিনে অর্থ অপচয় করার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
আমডাঙ্গা খালের জমি অধিকরণ ও সংস্কার কাজ বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই সম্পাদন করতে হবে। ভবদহ জনপদের ক্ষতিগ্রস্ত ফসল ও বাড়িঘরে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মুক্তেশ্বরী ভৈরব ও ভৈরব মাথাভাঙ্গা নদী সংযোগ দিতে হবে। জলাবদ্ধতার কারণ ও উপক‚লীয় অঞ্চলের নদী পানি ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক পর্যালোচনা করতে হবে। নদীর উপর থেকে সমস্ত অবৈধ দখল ও দূষণ মুক্ত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, সদস্য জিল্লুর রহমান ভিটু, অনিল বিশ্বাস, শিব পদ বিশ্বাস, মাসুদ শেখ, সাধন বিশ্বাস, রাজু আহম্মেদ, পার্থ প্রতিম বৈরাগী, সুকেন্দু বিশ্বাস, মহিতোশ বিশ্বাস, রাশেদা বেগম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান, ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি ও ওই জনপদের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের আন্দোলন সংগ্রামের পর বিগত সরকারের আমলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জনগণের দাবি মেনে নিয়ে-জরুরী ভিত্তিতে হরি, তেলিগাতি, ভদ্রা ও মোহনা পর্যন্ত ও তৎসংযুক্ত নদী খনন; বিলে বিলে পর্যায়ক্রমে টিআরএম বাস্তবায়ন; আমডাঙ্গা খাল সংস্কার ও ভবদহ স্লুইসগেটেসমূহ খুলে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কার্যক্রম শুরু করে।
সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল জানান, বর্তমানে জনগণের দাবি অনুযায়ী সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ৮১ কিলোমিটার নদী খনন বিলম্বে হলেও শুরু হয়েছে। সেখানে বরাদ্দকৃত টাকার পরিমান ১৪০ কোটি টাকা।
কিন্তু কাজের বিবরণ, কর্মস্থলে সাইনবোর্ডের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করাসহ সরকারি বাধ্যবাধকতা বিলম্বে কার্যকরী করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হল বোর্ডে নদী খননে নদীর তলদেশের প্রসস্ততা, গভীরতা ও নদীর উপরিভাগের প্রসস্ততার বিবরণ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়নি।
বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ড এর কাছে জানতে চাওয়া হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড তা জানাতে নানা অবান্তর যুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন। এটা নিয়ে রহস্যজনক কারণে লুকোচুরি করা হচ্ছে। এছাড়া নদী খননের মেয়াদ জুন ২০২৬ পর্যন্ত থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না বলে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য বলা হচ্ছে। এছাড়া দ্রুত কোন একটি বিলে টিআরএম এবং পর্যায়ক্রমে বিলে বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।
প্রকল্প মন্ত্রালয়ে ফাইল বন্দি থাকলে এবং নদী খননের সাথে সাথে প্রস্তাবিত বিলে টিআরএম বাস্তবায়ন না করা হলে দ্রুততম সময়ে খননকৃত নদী ভরাট হয়ে যাবে এবং সমুদয় টাকা অপচয় হবে বলে নেতৃবৃন্দ দাবি করেন।
সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ জানান, অনেক চাপাচাপির পর পানি উন্নয়ন বোর্ড ভবদহ স্লুইসগেটের ২১ ভেন্টের প্রথমে ২ টি, পর্যায়ক্রমে ৪ টি, ৯টি ও ১২টি খোলা হয়। এখন ১৭ টি পর্যন্ত গেট চালু করার সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। গেটসমূহ খুলে দেয়ার পর যে গতিতে পানি নিষ্কাশিত হয়েছে তার কারণেই এবার জলাবদ্ধতার মাত্রা কম এবং অধিক জমিতে ফসল ফলানো সম্ভব হয়েছে। পাম্পিং ব্যবস্থা যে অকার্যকর তা প্রমাণিত হয়েছে।
পাম্পকে কেন্দ্র করে যে অর্থ অপচয় হয়েছে ও স্থায়ী জলবদ্ধতার জন্য পাম্প অন্যতম কারণ তা জনসমক্ষে প্রতীয়মান হয়েছে। এই অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। আবারো ৫টি পাম্প পানি সেচের সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাউবো, কিন্তু এর কোন প্রয়োজন নেই।
এছাড়া আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের সিদ্ধান্ত দেড় বছর অতিক্রম করেছে টাকা বরাদ্দ ও টেন্ডার হবার পরও জমি অধিগ্রহণে গড়িমসি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাঁধা হয়ে আছে। দ্রুতই যদি জমি অধিগ্রহণ ও খাল সংস্কারের কাজ সম্পাদন করা না হয় তাহলে সামনে বর্ষায় জনপদ আবারো জলাবদ্ধতার শিকার হবে।



