যশোরে এক নারীকে মারধর, চাঁদা দাবি, শ্লীলতাহানি এবং অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পৌর যুবদলের এক নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি তারেক হোসেন চুন্নু ও নগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবের বিরুদ্ধে।
প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শহরের বারান্দীপাড়া ঢাকা রোড এলাকার বাসিন্দা জেসমিন বেগম অভিযোগ করেন, তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন চারটি ইজিবাইক ভাড়া দিয়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চুন্নু তার ব্যবসার দিকে নজর দেন এবং কিছুদিন পর সরাসরি তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
চাঁদা না দেওয়ায় ৪ আগস্ট বিকেলে শহরের বৌবাজার এলাকা থেকে চুন্নু ও তার সহযোগী বিশাল, আকাশ, লাল্টু, চাকু সোহেল, শফিক, হাসান, সনু, মন্ডল, হাবিব, তুষার, আল আমিনসহ প্রায় ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জেসমিনের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরে ঢুকে দুই লাখ টাকা দাবি করে, না দিলে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় সানু ও লাল্টু তার শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং চুন্নু ঘর তল্লাশি করে ব্যবসার ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
জেসমিন বেগমের ছেলে রাকিব হাসানকে মারধর করে আহত করা হয় এবং মাত্র ১১ মাস বয়সী শিশুর গলায় ছুরি ধরে অবশিষ্ট টাকা দিতে হুমকি দেওয়া হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে কিছু হামলাকারী পালিয়ে গেলেও চুন্নুসহ কয়েকজন ধরা পড়ে। তবে কিছুক্ষণ পর দুর্বৃত্তরা চাকুর ভয় দেখিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেয়।
অল্প সময় পর চুন্নুর নেতৃত্বে আরও ৩০-৪০ জন পুনরায় জেসমিনের বাড়িতে আসে। বস্তি এলাকা থেকে আনা প্রায় ৩০ জন নারী দিয়ে বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। জেসমিন ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
জেসমিনের দাবি, প্রথমে কোতোয়ালি থানা অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে অভিযোগ নিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সেনাবাহিনীর সহায়তায় মোবাইল ফোন ফেরত পেলেও তিনি শিশু সন্তান নিয়ে এখনো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং চাঁদাবাজ চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
তারেক হোসেন চুন্নুর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি জানান, জেসমিনের ইজিবাইক চালক দুর্ঘটনার পর ২৭শ টাকা জরিমানা করলে ঝামেলা শুরু হয়। মীমাংসার জন্য তারা সেখানে গিয়ে নাকি জেসমিনকে “অনৈতিক কর্মকাণ্ডে” লিপ্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং পুলিশে সোপর্দ করেন। এজন্য ক্ষুব্ধ হয়ে জেসমিন মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন বলে দাবি করেন তিনি।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন জানান, ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ দিয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


