ভ্রমণে গেলে অনেক সময় একা হোটেলে থাকতে হয়। পরিবার কিংবা বন্ধুরা পাশে না থাকলে সেই নিঃসঙ্গতা আরও তীব্র হয়। তবে চিনের উহানের এক নামকরা হোটেল অতিথিদের সেই সমস্যার অভিনব সমাধান করেছে। সেখানে একা যাত্রীদের জন্য ‘বিশেষ বন্ধু’র ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর সেই বন্ধুটি হল মানুষের সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্রাণী— কুকুর।
চিনের উহানে অবস্থিত বিলাসবহুল ‘কান্ট্রি গার্ডেন ফিনিক্স হোটেল’ অতিথিদের ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। যেসব ভ্রমণকারী একা আসেন, তাঁদের জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষিত সারমেয় সঙ্গীর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ফলে অতিথিদের হোটেল রুমে একা কাটাতে হচ্ছে না।
অতিথিরা চাইলে গোল্ডেন রিট্রিভার, হাস্কি অথবা ওয়েস্ট হাইল্যান্ড টেরিয়ার প্রজাতির কুকুরের সঙ্গ পেতে পারেন। এর জন্য অতিরিক্ত খরচ পড়বে প্রায় ৪,৭০০ টাকা প্রতিদিন।
হোটেল ম্যানেজার ডং জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এই বিশেষ পরিষেবা চালু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ৩০০ জনের বেশি অতিথি এই সেবা নিয়েছেন এবং বেশিরভাগই সন্তুষ্ট হয়েছেন।
অনেক অতিথি জানিয়েছেন, কিছু কুকুর খুবই চঞ্চল ও খেলাধুলাপ্রিয়, আবার কিছু কুকুর শান্ত ও ধীরস্থির। কেউ খেলায় মেতে ওঠে, কেউ আবার অতিথির গা হাত চেটে আদর করে পাশে থাকে। এতে ভ্রমণকারীরা নিজেদের একাকীত্ব ভুলে আনন্দ উপভোগ করছেন।
চিনে পোষ্য শিল্পের বাজার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে শুধু শহরাঞ্চলেই এর মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ইউয়ান, এবং প্রতি বছর ৭.৫% হারে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে বাজারটি পৌঁছে যাবে ৪০ হাজার কোটি ইউয়ানে।
এ কারণে কুকুরের ক্যাফে, পোষ্যের সঙ্গে যোগব্যায়াম, গ্রুমিং এবং নানা ধরনের পোষ্যকেন্দ্রিক সেবা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এরই ধারাবাহিকতায় হোটেলগুলোতেও অতিথিদের সঙ্গ দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত সারমেয়র ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।
বর্তমানে ‘কান্ট্রি গার্ডেন ফিনিক্স’ হোটেলে রয়েছে ১০টি প্রশিক্ষিত কুকুর। প্রতিটি কুকুরের জন্য নির্দিষ্ট প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সারমেয়দের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়, যাতে অতিথিদের সঙ্গে তারা নিরাপদে সময় কাটাতে পারে।
পাশাপাশি, কুকুরগুলির মালিকরাও সন্তুষ্ট। তাঁরা তাঁদের পোষ্যকে হোটেলে পাঠিয়ে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে খুশি হচ্ছেন এই ভেবে যে তাঁদের কুকুর অন্যের প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠছে।
একজন মালিক বলেছেন, “আগে আমি আমার কুকুরকে কুকুর ক্যাফেতে পাঠাতাম, এখন সে হোটেলে যায়। অতিথিদের সঙ্গে খেলে, সময় কাটায়। এতে ওরও আনন্দ হয়।”
যদিও উদ্যোগটি প্রশংসিত হচ্ছে, তবুও কিছু আইনি প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতিথি ও কুকুরের মধ্যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার হোটেল কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। এজন্য পেশাদার প্রশিক্ষক নিয়োগ এবং নিরাপত্তা নিয়ম কঠোর করার দাবি উঠেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চিনে পোষ্যের সংখ্যা চার বছরের কম বয়সী শিশুদের থেকেও বেশি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শহরের প্রতি আট জন বাসিন্দার মধ্যে একজন পোষ্যের মালিক। এই তথ্যই প্রমাণ করে কেন হোটেলগুলিতে পোষ্যের সঙ্গ দেওয়ার পরিষেবা এত দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।


