লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা মোনালিসা—শিল্পের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় এই চিত্রকর্মটির রহস্যময় হাসি যুগে যুগে মানুষের কৌতূহল জাগিয়েছে। তবে এবার সেই পরিচিত মোনালিসাকে নতুন রূপে দেখা যাচ্ছে। কেরালার ওনাম উৎসবকে সামনে রেখে পর্যটন দফতর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সাহায্যে সাজিয়েছে এক ভিন্নধর্মী ভারতীয় মোনালিসা।
মোনালিসা শুধু একটি ছবি নয়, বরং বিশ্বসংস্কৃতির প্রতীক। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মানুষ এই নামটির সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু এই নামের সঙ্গেই যখন নতুন আবহ যোগ হয়, তখন তা হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
কেরালার পর্যটন দফতর এবার মোনালিসাকে তুলে ধরেছে দক্ষিণ ভারতীয় নারীর সাজে—কাসাভু শাড়ি: কেরালার ঐতিহ্যবাহী পোশাক।জুঁইফুলের মালা: নারীর খোঁপায় সাজানো শুদ্ধতার প্রতীক।এই সাজে মোনালিসাকে দেখে মনে হয় তিনি যেন কেরালারই এক তরুণী, যিনি ওনামের আনন্দে মেতে উঠেছেন।
ওনাম কেবল একটি উৎসব নয়, বরং কেরালার ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। প্রতিবছর আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত এই উৎসব পালিত হয়, যা টেনে আনে হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক।
✨ ওনামের আকর্ষণ—পুকলাম (ফুলের রঙিন নকশা), ভল্লম কলি (নৌকাবাইচ), ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সঙ্গীত ও কাসাভু শাড়ির শোভাযাত্রা।
এবার সেই সাংস্কৃতিক আবহে মোনালিসার ভারতীয় রূপ যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।
কেরালার পর্যটন দফতর বিদেশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াতে ব্যবহার করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তারা বিশ্বখ্যাত মোনালিসাকে এমনভাবে পুনর্নির্মাণ করেছে যাতে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে তার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য—দেশি ও বিদেশি সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো,পর্যটকদের মধ্যে কেরালা সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করা,সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রচার বাড়ানো।ফলে মোনালিসার এই নতুন রূপ ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে।
শাড়ি পরিহিতা এই ভারতীয় মোনালিসা শুধু শিল্পের নতুন দিক উন্মোচন করেনি, বরং তুলে ধরেছে ভারতের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য।
🔹 দা ভিঞ্চির চিত্রকর্মের রহস্যময়তা যেমন যুগে যুগে শিল্পপ্রেমীদের আলোচনার বিষয়, তেমনি এই নতুন রূপ বিদেশি পর্যটকদের কাছে কেরালাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে।
এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে—শিল্প কখনো সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সময় ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিলেমিশে নতুন ব্যাখ্যা তৈরি করে।
মোনালিসার শাড়ি ও জুঁইমালার নতুন সাজ নিছক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল প্রয়োগ নয়; এটি এক সাংস্কৃতিক বার্তা। এখানে শিল্প, ঐতিহ্য আর প্রযুক্তি মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অভিনব ক্যানভাস।
কেরালার পর্যটন দফতরের এই পদক্ষেপ যেমন বিদেশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে, তেমনি ভারতের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে।
👉 তাই বলা যায়, মোনালিসার রহস্যময় হাসি এবার শাড়ি ও জুঁইফুলে আরও বর্ণিল হয়ে উঠেছে।


