আজকের দিনে আলু ছাড়া বাঙালি হেঁশেল কল্পনাই করা যায় না। ভাত-ডাল, সবজি, মাছ কিংবা মাংস—সব খাবারেই আলুর ছোঁয়া যেন আবশ্যক। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ভারতের মানুষ আলুকে চিনেছেন খুব বেশি দিন হয়নি। মাত্র দুই শতাব্দী আগেও এই সবজিটির অস্তিত্ব ভারতীয় রান্নাঘরে ছিল না।
আলুর আগমন ঘটে পর্তুগিজদের হাত ধরে। তারা পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যে ভারতবর্ষে প্রথম আলু নিয়ে আসে। তবে শুরুতে আলু শুধুমাত্র পশ্চিম ভারতের সীমিত কিছু অঞ্চলে চাষ হতো। দেশের বেশিরভাগ মানুষ তখনও এই অজানা কন্দজাতীয় খাদ্য সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।
ভারতে আলুর বিস্তারের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দিকে তারা বাংলার কৃষকদের হাতে আলুর বীজ তুলে দেয় এবং আলু চাষে উৎসাহিত করে। ধীরে ধীরে বাংলায় আলুর চাষ শুরু হয়, এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে।
শুরুতে হয়তো আলু ছিল অচেনা, কিন্তু স্বাদ একবার মুখে পড়তেই তা মানুষের মনে জায়গা করে নেয়। আলুর সহজলভ্যতা, সস্তা দাম আর নানা রকম রান্নায় ব্যবহারযোগ্য হওয়ার কারণে তা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধনী থেকে দরিদ্র—সবাই আলুকে নিজেদের প্রতিদিনের খাবারে অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করে।
আজ ভারতের প্রতিটি পরিবারের রান্নাঘরে আলু একটি অপরিহার্য উপাদান। তরকারি, ভাজি, দম, পরোটা, সমুচা, কচুরি থেকে শুরু করে ফরাসি ফ্রাই বা চিপস—সবখানেই আলুর জয়জয়কার। বাজারে গেলে সবজির ঝুড়িতে আলু না থাকলে যেন তালিকা অপূর্ণ থেকে যায়।
মাত্র ২০০ বছরের মধ্যে আলু ভারতীয়দের প্রিয় খাদ্যে পরিণত হয়েছে। একসময় যে সবজিকে মানুষ চিনতেনই না, আজ সেটাই দেশের সবচেয়ে বেশি খাওয়া সবজি। ভারতীয় রান্নার বহুমুখী স্বাদে আলু আজ এক অনিবার্য নাম।
ভারতে আলুর ইতিহাস খুব পুরনো না হলেও এর প্রভাব বিরাট। পর্তুগিজদের হাত ধরে আগমন, ব্রিটিশদের প্রচেষ্টা আর ভারতীয়দের স্বাদের প্রতি ভালোবাসা—এই তিন মিলেই আলু এখন ভারতের রান্নাঘরের রাজা। আজ আলু ছাড়া ভারতীয় খাবারের কল্পনাই অসম্পূর্ণ।


