উত্তরপ্রদেশের হাপুরে ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ও লজ্জাজনক পরকীয়া কাণ্ড, যা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংবাদমাধ্যম—সবখানেই তীব্র আলোড়ন তুলেছে। হোটেলের ঘরে বিবাহিত নারীর সঙ্গে প্রেমিককে ধরে ফেলেন স্বামী। আর তারপর যা ঘটে, তা যেন সিনেমাকেও হার মানায়।
হোটেলের ঘরে ধরা পড়ল পরকীয়ার দৃশ্য
একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ করছিলেন যে, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষের সম্পর্ক রয়েছে। স্ত্রীর গতিবিধি নিয়ে নজর রাখছিলেন তিনি। অবশেষে একদিন তাঁর হাতে আসে সেই ‘সুযোগ’, যখন তিনি জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী একটি হোটেলের ঘরে রয়েছেন এক যুবকের সঙ্গে।
তৎক্ষণাৎ তিনি উপস্থিত হন সেই হোটেলে। হোটেল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় খোলানো হয় ঘরের দরজা, যেখানে তিনি হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্ত্রীকে অপর এক যুবকের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায়।
নগ্ন অবস্থায় পালাতে বাধ্য প্রেমিক
স্বামীর উপস্থিতি বুঝতেই মহিলা বাথরুমে আশ্রয় নেন, আর তখন প্রেমিককে ধরে ফেলেন স্বামী। শুরু হয় তীব্র মারধর। গায়ে কোনও পোশাক না থাকায় প্রেমিক একপ্রকার নগ্ন অবস্থাতেই নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পালাতে শুরু করেন।
তিনি হোটেলের ঘর থেকে ছুটে করিডরে, সেখান থেকে বেরিয়ে রাস্তার মাঝখানে দৌড়াতে থাকেন নগ্ন অবস্থায়। এই লজ্জাজনক দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান পথচলতি সাধারণ মানুষ। অনেকে থমকে দাঁড়ান, কেউ কেউ ভিডিওও ধারণ করেন বলে জানা গেছে।
ছবিতে ধারণ, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে এরপর। ঘটনার পর স্ত্রী নিজেই প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ওই যুবক তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন এবং সেই সম্পর্কের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন তাঁর অজ্ঞাতেই।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রেমিক পলাতক, এবং পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া: সামাজিক অবক্ষয়ের নিদর্শন
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রীতিমতো হতবাক এবং ক্ষুব্ধ। তাঁদের বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনা সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের পরিচয়। এমনকি এই নিয়ে এলাকায় চর্চা, গুঞ্জন ও গুজবও ছড়িয়েছে।
হোটেলের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন
এই ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারা কীভাবে কোনো পরিচয় যাচাই ছাড়া ঘর বরাদ্দ করল? হোটেলটি নিয়মমাফিক চালানো হচ্ছিল কিনা তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, হোটেলটির কাগজপত্র, গেস্ট রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এবং প্রয়োজনে হোটেল মালিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি
এই ঘটনাটি ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে:
- ধারা ৩৭৬: ধর্ষণ যদি প্রমাণিত হয়
- ধারা ৪২০: প্রতারণা
- আইটি অ্যাক্ট: ছবি/ভিডিও ধারণ ও তা ছড়ানোর আশঙ্কা থাকলে
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষকেই দোষী বা নির্দোষ বলা যাবে না। তবে এই ঘটনার ভিডিও বা ফুটেজ যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়, তাহলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাইবার অপরাধ বিভাগে তদন্ত শুরু হবে।
সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন
এই নগ্ন অবস্থায় প্রেমিকের দৌড় এবং হোটেলে পরকীয়ার দৃশ্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। কেউ বলছেন, “কারও ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ্যে টেনে আনাটা ভুল,” আবার কেউ বলছেন, “এটাই তো ফল সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের।”
প্রশ্ন অনেক, উত্তর সময় দেবে
এই ঘটনা সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ, সম্পর্কের সততা ও আইনের সঠিক প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয়ের দিকেই আঙুল তুলেছে।
হোক সে পরকীয়া, প্রতারণা কিংবা সমাজের কৌতূহলী মনোভাব, এই ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের হাপুর থেকে গোটা দেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।
আমরা আশা করি, আইন তার নিজস্ব গতিতে সত্য উদঘাটন করবে, আর সমাজ শিক্ষা নেবে, যাতে এমন ঘটনা বারবার না ঘটে।


