ঢাকার গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপুর নাম। তদন্তের সময় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নামও। তবে আসিফ মাহমুদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
১৪ আগস্ট সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমার নাম এ ঘটনায় আসায় আমি বিস্মিত। যার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তাকে জোরপূর্বক এক নেতার বাসায় বসিয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন, তাই অতিরিক্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
নিজের দৈনন্দিন রুটিন নিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় কাজের ব্যস্ততায় রাত গভীর হয়ে যায়। ভোররাতে যখন বাসায় খাবারের ব্যবস্থা থাকে না, তখন তিনি সাধারণত ৩০০ ফিট এলাকার নীলা মার্কেটে যান, যেখানে সুস্বাদু হাঁসের মাংস পাওয়া যায়। ৪-৫ জন মিলে সেখানে খাওয়ার পর কখনও কখনও দোকান বন্ধ পেলে গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে চলে যান। তবে জানে আলম অপু যেদিনের কথা বলছেন, সেদিন আসলেই ওয়েস্টিনে গিয়েছিলেন কি না—সেটা তিনি মনে করতে পারছেন না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত ব্যক্তি তিনি কি না—এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “হেলমেট পরে থাকা কাউকে সিসিটিভি থেকে শনাক্ত করে দাবি করা খুবই অবিশ্বাস্য বিষয়। প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।”
আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি জানে আলম অপুকে চিনতেন ২০২২ সালে, যখন দুজনই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অপু তখন সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আরও জানান, অভিযোগ ওঠার পর তিনি শুনেছেন, অপুর স্ত্রী পরিচয়ে একজন সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন—অপুকে গুম করে জোরপূর্বক বক্তব্য আদায় করা হয়েছে। অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্টরুমে বা তথাকথিত ‘আয়নাঘর’-এ এ ধরনের ঘটনা ঘটত, যা ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এখন আবার সেই পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।


