বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
20.3 C
Jessore
More

    সেহরি-ইফতারে লোডশেডিং নয়! প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

    নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিশ্রুতি আর স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। বৈঠকটি ছিল পরিচিতিমূলক, তবে আলোচনা হয়েছে এমন সব বিষয়ে, যেগুলো সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত।

    রমজান সামনে। এই সময়টাতে মানুষ চায় একটু স্বস্তি—বাজারে দাম যেন হাতের নাগালে থাকে, বিদ্যুৎ যেন হঠাৎ করে চলে না যায়, আর আইনশৃঙ্খলা যেন স্থিতিশীল থাকে। সেই জায়গাগুলোতেই প্রথম বৈঠক থেকে স্পষ্ট বার্তা দিল সরকার।

    রমজানে বিদ্যুৎ চলে গেলে কেমন লাগে, সেটা আমরা সবাই জানি। সেহরির সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ না থাকলে রান্না, খাবার প্রস্তুতি—সবকিছুতেই বিঘ্ন ঘটে। ইফতারের সময় ফ্যান না ঘোরা বা আলো নিভে যাওয়া যেন এক আলাদা অস্বস্তি তৈরি করে। তারাবির নামাজের সময় মসজিদে বিদ্যুৎ সমস্যা হলে সেটাও ভোগান্তির কারণ হয়।

    এই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ অবশ্যই নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে। বিদ্যুৎ বিভাগকে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেন লোডশেডিং বা হঠাৎ বিভ্রাট রমজানের ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটায়।

    সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি এটি জনসেবার একটি মৌলিক বিষয়।

    রমজান এলেই বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে—চিনি, ছোলা, ডাল, তেল, খেজুর, মাংস—সবকিছুর দাম যেন একটু একটু করে ওপরে উঠে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার।

    আরও পড়ুন :  মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় ‘মঞ্চ ৭১’-এর দৃপ্ত আত্মপ্রকাশ ও ৫ দফা দাবি

    মন্ত্রিসভার বৈঠকে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে বাজার মনিটরিং জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    সরকার চায়, রমজান যেন মানুষের জন্য বাড়তি চাপের সময় না হয়ে বরং স্বস্তির সময় হয়। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে মাঠে সক্রিয় রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। বাজার, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন—সব জায়গায় ভিড় বাড়ে। এই সময় চুরি, ছিনতাই বা বিশৃঙ্খলার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের আগে-পরে মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    সাধারণ মানুষের ভাষায় বললে, বাড়ি ফেরার পথে যেন কেউ ঝামেলায় না পড়ে—সেই নিশ্চয়তা দিতে চায় সরকার।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলোও এসেছে আলোচনায়। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড—সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

    ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষক কার্ড কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, প্রণোদনা ও সহায়তা সহজ করতে পারে। আর স্বাস্থ্য কার্ড সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    সরকার চাইছে, এসব প্রকল্প শুধু কাগজে-কলমে না থেকে দৃশ্যমান হোক। মানুষ যেন বাস্তবে এর সুফল পায়। “দেখা যায় এমন কাজ”—এই শব্দটাই যেন বারবার উঠে এসেছে বৈঠকে।

    আরও পড়ুন :  সংবিধান সংস্কার পরিষদে এখনই শপথ নয়! বিএনপির বড় সিদ্ধান্তে তোলপাড়

    নতুন সরকার শুরুতেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বৈঠকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—দুর্নীতির প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

    কারণ একটা বিষয় খুব সহজ—যেখানে দুর্নীতি কম, সেখানে কাজ দ্রুত এগোয়। মানুষের আস্থা বাড়ে। সরকারও সেই আস্থার জায়গাটা শক্ত করতে চায়।

    বিদেশে কর্মসংস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় একটি খাত। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখে।

    মন্ত্রিসভার বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নতুন নতুন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    সরকার চাইছে, বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা যেন নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন এবং ন্যায্য সুবিধা পান।

    অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার ১৮০ দিনের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করবে। এই সময়ের মধ্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

    এটা অনেকটা নতুন অফিসে যোগ দিয়ে প্রথম ছয় মাসের টার্গেট ঠিক করার মতো। সরকারও চাইছে, প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যেই কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে। যাতে মানুষ বুঝতে পারে—পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    এই রোডম্যাপের আওতায় রমজান ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, বাজার নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি—সবকিছু অগ্রাধিকার পাবে।

    আরও পড়ুন :  অজেয় থেকে অসহায়! অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ পতনের আসল কারণ কী?

    বৈঠকে গণমাধ্যম কমিশনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে হাতে প্রস্তাব রয়েছে এবং তা নিয়ে কাজ করা হবে।

    গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। তাই এ খাতকে আরও সুসংগঠিত ও জবাবদিহিমূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

    রমজান শেষে আসে ঈদ। আর ঈদ মানেই বাড়ি ফেরা। লাখ লাখ মানুষ রাজধানী ও বড় শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে যান। এই সময় পরিবহন ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ে।

    প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ঈদে মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সক্রিয় থাকার কথা বলা হয়েছে।

    মানুষ যেন নিরাপদে, স্বস্তিতে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছাতে পারে—এটাই সরকারের লক্ষ্য।

    মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক থেকেই নতুন সরকার যে বার্তা দিয়েছে, তা স্পষ্ট—রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করাই এখন বড় অগ্রাধিকার। বিদ্যুৎ, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক সুরক্ষা—সব জায়গাতেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—এই নির্দেশনাগুলো কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়। কারণ মানুষ কথা নয়, কাজ দেখতে চায়।

    প্রথম বৈঠকেই যে রূপরেখা তৈরি হয়েছে, তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে রমজান ও ঈদ ঘিরে জনভোগান্তি অনেকটাই কমে আসতে পারে। এখন সবার নজর—কতটা দ্রুত আর কতটা কার্যকরভাবে এগোয় নতুন সরকারের এই উদ্যোগ।

    লেটেস্ট আপডেট

    খলিলুর রহমান মন্ত্রিসভায় যোগ: “আমি তো জোর করে যাইনি” বিস্ফোরক মন্তব্য

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব থেকে নির্বাচনে বিজয়ী দলের মন্ত্রিসভায় যোগ...

    সুখবর! র‍্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টাইগাররা

    সুখবর! র‍্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টাইগাররা। ২০২৮ সালের...

    মব কালচারের দিন শেষ? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি!

    বাংলাদেশে মব কালচারের দিন শেষ—এমন কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা...

    আইনের শাসনই শেষ কথা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কড়া বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি...

    তালিবানের নতুন আইন: হাড় না ভাঙলে মারধর অপরাধ নয়? বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক

    আফগানিস্তানে Taliban শাসনের অধীনে নতুন ফৌজদারি বিধি ঘিরে বিশ্বজুড়ে...

    বাছাই সংবাদ

    মব কালচারের দিন শেষ? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি!

    বাংলাদেশে মব কালচারের দিন শেষ—এমন কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা...

    আইনের শাসনই শেষ কথা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কড়া বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি...

    পুনঃভর্তি ফি বন্ধ! শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন কঠোর সিদ্ধান্তে স্বস্তি শিক্ষার্থীদের

    দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে...

    নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যবিপ্রবি উপাচার্যের অভিনন্দন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর এককভাবে...

    নতুন সরকারের কূটনীতির হাল ধরলেন খলিলুর রহমান ও শামা ওবায়েদ

    বাংলাদেশের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায়...

    তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন! ৫ মন্ত্রণালয় নিজের হাতে, চমকপ্রদ নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৯...

    স্ক্রিন ছাড়া স্মার্ট গ্লাস! Apple-এর গোপন N50 প্রজেক্ট ফাঁস

    প্রযুক্তি দুনিয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে Apple। জানা যাচ্ছে,...

    অজেয় থেকে অসহায়! অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ পতনের আসল কারণ কী?

    একটা সময় ছিল, নামটাই যথেষ্ট ছিল—অস্ট্রেলিয়া। মাঠে নামলেই প্রতিপক্ষের...

    এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

    জনপ্রিয় ক্যাটাগরি

    Translate »