নির্বাচনের দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে বিএনপির সরকার গঠন করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শেখ হাসিনাকে ফেরানো, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কসহ নানা প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন “এটি আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে”।
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যেখানে আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থক রয়েছে, সেই বিবেচনায় সমস্যা সমাধান বা মিটমাটের জন্য পরিকল্পনা কী, এ প্রশ্নের উত্তরে মি. রহমান বলেন- “আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে” সমাধান হবে উল্লেখ করেন মি. রহমান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় বা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না তেমন আরেকটি প্রশ্নের উত্তর দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বলেন, “এটি বিচার বিভাগের বিষয়”।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিষয়ে “বিচার বিভাগকে নির্বাহী এবং আইনসভার কাজ থেকে আলাদা” রাখার কথা বলেন তিনি।
বিএনপি সরকার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চালিয়ে যাবে কি না এমন আরেকটি প্রশ্ন এলেও এর কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি সংবাদ সম্মেলনে।
শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুরো সময়টাতেই সংক্ষেপে বক্তব্য রেখেছেন তারেক রহমান। পরবর্তী প্রশ্নোত্তর পর্বেও খুব অল্প কথায় উত্তর দেওয়া হয়।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো, জনগণ, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, “গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদযাপন” করা হয়েছে এবং নির্বাচনের পর উসকানি দেওয়া হলেও বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
ভারতের সাথে সম্পর্ক, চীন প্রসঙ্গ
প্রশ্নোত্তর পর্বের শেখ হাসিনার বিষয় ছাড়াও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও বেশ কয়েকবার ভারতীয় সাংবাদিকদের দিক থেকে উঠে আসে।
বিএনপি আগে যেমনটা বলেছে, সেই একই ধরনের অবস্থানের কথা বলা হয় এবারও।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেমন হবে সে প্রশ্নের উত্তরে “বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সব দেশের জন্য একই বৈদেশিক নীতি” বজায় রাখার কথা বলেন তারেক রহমান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও যুক্ত করেন, “এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক স্বার্থ, হস্তক্ষেপ না করার নীতি এবং কৌশলগত স্বশাসনের ভিত্তিতে” হবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- ক্রিকেটকে রাজনীতির বাইরে রাখা হবে কি না। তবে এর কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি।
চীনের সাংবাদিকদের দিক থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন রাখা হয়। সেখানেও “পারস্পরিক স্বার্থ” এবং বাংলাদেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য সহায়ক হয় সেই দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সব দেশের জন্য সমান – এমন কথাই বারবার ঘুরেফিরে আসে এই সম্মেলনে।
সংযত, সতর্ক থাকার আহ্বান
“কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে, এজন্য নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর আমি সারাদেশে বিএনপি এবং জোটভুক্ত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম। আল্লাহর দরবারের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে আমরা বিজয় উৎসব পালন করেছি,” বলেন তারেক রহমান।
দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড “বরদাশত করা হবে না”- বলে জানান তিনি।
এছাড়া জুলাই সনদ নিয়েও তার লিখিত বক্তব্যে বলা হয় “আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ”।
নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে “ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকলে” সেসব বিরোধ যেন প্রতিশোধ-প্রতিহিংসায় রূপ না নেয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি তাদের ৩১ দফা পরিকল্পনা বা নির্বাচনী ইশতেহারে যেমনটা বলেছে সেগুলোই বাস্তবায়ন করা হবে বলেও একাধিক উত্তরে উঠে আসে।
বিগত সরকারের সময় অর্থনীতিতে ‘লুটপাট’ বা টাকা পাচার করা করার যেসব অভিযোগ আছে সেখানে বিএনপির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় কী পদক্ষেপ নেবে- এমন প্রশ্নে বিএনপির জবাব ছিল, ইশতেহার অনুযায়ী “সবাই সবার যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাই সবার মতো করে” ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে।
“কোনো একটা বিশেষ মহলকে আমরা সুযোগ দিতে চাই না,” বলেন মি. রহমান।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।


