বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বড় অর্ডার, এয়ারক্রাফটসহ আরও পণ্যের আমদানি পরিকল্পনা
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, “আমাদের বিমানের বহর বাড়ানোর পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই ছিল। এখন ট্যারিফ আলোচনার নতুন পর্বে গিয়ে আমরা এই অর্ডারটা চূড়ান্ত করছি। আগে ১৪টি কেনার পরিকল্পনা থাকলেও, তা বাড়িয়ে ২৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে।”
সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিবের বক্তব্য
রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বড় অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তাই এই ঘাটতি কমাতে শুধু বোয়িং উড়োজাহাজ নয়, তাদের কাছ থেকে তুলা, সয়াবিন, গমসহ বেশ কিছু কৃষিপণ্য আমদানির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।”
বোয়িংয়ের সরবরাহে সময় লাগবে, ক্রয়ের চাহিদা বেড়েছে বৈশ্বিকভাবে
বাণিজ্য সচিব আরও জানান, বোয়িং কোম্পানি সরাসরি মার্কিন সরকারের নয়, বরং এটি একটি বেসরকারি কোম্পানি। সুতরাং, বোয়িং নিজের উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী উড়োজাহাজ সরবরাহ করবে এবং তা একবারে নয়, পর্যায়ক্রমে।
তিনি বলেন,
“বোয়িং কোম্পানি একসময়েই এতগুলো উড়োজাহাজ দিতে পারবে না। আমাদের যেহেতু ২৫টির অর্ডার দেওয়া হয়েছে, তাই বোঝা যাচ্ছে তারা ধাপে ধাপে সরবরাহ করবে। হয়তো দুই-এক বছরের মধ্যেই আমরা কিছু হাতে পাবো।”
আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত
বিশ্বব্যাপী বোয়িং উড়োজাহাজের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সচিব জানান, ভারত ১০০টি, ভিয়েতনাম ১০০টি এবং ইন্দোনেশিয়া ৫০টি বোয়িং অর্ডার দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশও তার এয়ারলাইনস বহরকে আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে চাইছে।
তিনি বলেন, “আমাদের জাতীয় এয়ারলাইনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতা করতে হলে বড় ও আধুনিক বহরের প্রয়োজন। তাই বোয়িংয়ের নতুন মডেলগুলোর প্রতি আমাদের আগ্রহ রয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছে প্রতিনিধি দল, শুল্ক ছাড়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ
বাণিজ্য সচিব জানান, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক হ্রাস নিয়ে আলোচনা করতে একটি সরকারি প্রতিনিধি দল সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছে। এটি শুল্ক কমানোর তৃতীয় দফা আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন,
“আমরা চাই, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যে শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাক। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য আরও মজবুত হবে।”
উড়োজাহাজ আমদানির প্রভাব এবং জাতীয় গুরুত্ব
২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয় কেবলমাত্র একক কোনো চুক্তি নয়—এটি বাংলাদেশের আকাশপথ সম্প্রসারণের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এয়ারলাইনস ব্যবসার গ্লোবাল প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে, আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন বাড়াতে এবং নতুন রুট চালুর লক্ষ্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, এটি মার্কিন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেও নতুন মাত্রা দেবে।


