বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধাক্কা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক ঘোষণায় জানিয়েছে, দেশে প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে বিশাল অঙ্কে—পুরো ১০ হাজার ৪৭৪ টাকা। নতুন দামে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি এখন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকা।
বাজুসের সর্বশেষ এই মূল্য হালনাগাদ কার্যকর হবে বুধবার, ২৯ অক্টোবর থেকে। মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাসের কারণে এই দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদা, ডলারের বিনিময় হার, এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রভাব বিবেচনা করেই এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দামের তালিকা: কত হচ্ছে কোন ক্যারেটের স্বর্ণ?
| ক্যারেট | ভরিপ্রতি দাম (টাকা) |
| ২২ ক্যারেট | ১,৯৩,৮০৯ |
| ২১ ক্যারেট | ১,৮৫,০০৩ |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৫৮,৫৭২ |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৩১,৬২৮ |
বাজুসের নিয়ম অনুযায়ী, এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন, নিপুণতা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
এক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা স্বর্ণের দাম হ্রাস
এর আগেও, ২৭ অক্টোবর বাজুস প্রতি ভরিতে ৩,৬৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছিল ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা। কিন্তু মাত্র এক দিনের মাথায় আবারও দামে বড় কাটছাঁট আনলো প্রতিষ্ঠানটি।
এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৭০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে—এর মধ্যে ৪৮ বার বেড়েছে, আর কমেছে ২২ বার। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে, মোট ৬২ বার দামে পরিবর্তন হয়েছিল—যার মধ্যে ৩৫ বার বৃদ্ধি ও ২৭ বার হ্রাস করা হয়েছিল।
রুপার দাম অপরিবর্তিত
স্বর্ণের দামে এমন বড় পতনের পরও দেশের বাজারে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখনো আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে রুপা।
| ক্যারেট | প্রতি ভরির দাম (টাকা) |
| ২২ ক্যারেট | ৪,২৪৬ |
| ২১ ক্যারেট | ৪,০৪৭ |
| ১৮ ক্যারেট | ৩,৪৭৬ |
| সনাতন পদ্ধতি | ২,৬০১ |
চলতি বছরে রুপার দাম ৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে—এর মধ্যে বেড়েছে ৬ বার, আর কমেছে ৩ বার।
স্বর্ণবাজারে এই পরিবর্তনের অর্থ কী?
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ওঠানামা এবং ডলার সংকটের কারণে দেশের বাজারে এমন দ্রুত দামের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অনেকেই স্বর্ণকে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ হিসেবে ধরে রাখলেও সাম্প্রতিক সময়ের অস্থিরতা সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে।
উদাহরণ হিসেবে, যে ব্যক্তি গত মাসে একটি গহনা কিনেছিলেন ২ লাখ টাকায়, এখন সেই একই গহনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা কম। এতে একদিকে ক্রেতারা কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে নতুন ক্রেতাদের জন্য এটি একটি সুযোগ তৈরি করছে।
সামনে কী হতে পারে
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল না হলে বাংলাদেশেও এমন ওঠানামা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ডলার সংকট, আমদানি খরচ, এবং বৈশ্বিক রাজনীতি—সব মিলিয়ে স্বর্ণবাজারের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
তবে রুপার দামের স্থিতি বাজারে কিছুটা ভারসাম্য রাখছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী মাসে বাজারে নতুন সমন্বয়ের মাধ্যমে দামের স্থিতি ফিরে আসবে।


