ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বাংলাদেশসহ এশিয়ার পাঁচটি দেশে তার নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন। ঢাকার কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কারণে এশিয়া সফরের সময়সূচি আপাতত স্থগিত করেছেন মেলোনি।
প্রধানমন্ত্রী মেলোনির ঢাকা সফরটি হওয়ার কথা ছিল আগামী ৩০ আগস্ট। দুই দিনের এ সফরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন। মেলোনির ব্যক্তিগত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তার মেয়েও এ সফরে সাথে থাকার কথা ছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৩১ আগস্ট মেলোনির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। এ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
বাংলাদেশ সফরের পর মেলোনির ভ্রমণসূচিতে আরও চারটি এশীয় দেশ ছিল—সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। তবে সেগুলোও বাতিল করা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, এ সফরের মাধ্যমে ইতালি এশিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চেয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি বর্তমানে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে ইতালি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে ইতালিকে শীর্ষ নেতৃত্বে দেখা যাচ্ছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে তার ব্যস্ত কূটনৈতিক সময়সূচির কারণে এশিয়ার সফর স্থগিত করতে হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশা করা হয়েছিল, এ সফরের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম সদস্য দেশ ইতালির সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, রপ্তানি এবং বিনিয়োগে ইতালির অবদান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতো। তবে সফর বাতিল হওয়ায় তা সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেল।
যদিও এ সফর বাতিল হয়েছে, তবে কূটনৈতিক মহল আশাবাদী যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় মেলোনির ঢাকা সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশের সাথে ইতালির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


