চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়লেও, উপজেলা প্রশাসন এবং সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে এই পাহাড়ে মসজিদ নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা নেই। ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেছেন যে, এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর কোনো সরকারি অনুমোদন বা প্রস্তাবনা নেই।
ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে মসজিদ নির্মাণের নামে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। তিনি বলেন,
“মসজিদ যদি কারও তৈরি করতেই হয়, তবে সেটি মুসলিম-প্রধান এলাকায় হওয়া উচিত। চন্দ্রনাথের পাহাড়ের চূড়ায় মসজিদ বানিয়ে লাভ কী? সেখানে নামাজ পড়তে যাবে কে? এটি সম্পূর্ণ গুজব এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন যে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন কিংবা সরকার কোনো ধরনের অনুমোদন, নকশা বা পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি।
ধর্ম উপদেষ্টার ভাষ্যমতে, চন্দ্রনাথ পাহাড়ে মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে গুজব ছড়ানোর সূত্রপাত হয়েছে একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। কোনো সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি কঠোরভাবে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার কখনো এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে।”
বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বর্তমান সরকার সবসময় তৎপর। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন,
“আমরা সবসময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সহমর্মিতা ও সহনশীলতার পক্ষে। দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষের জন্য তাদের নিজস্ব উপাসনার জায়গা নিশ্চিত করা হয়েছে। যেখানে ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় তৈরি হলে সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়, সেখানে সরকার কখনোই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেবে না।”
চন্দ্রনাথ পাহাড় দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এখানে আসেন। এজন্য সরকার পাহাড়টির পবিত্রতা ও ধর্মীয় গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক।
চন্দ্রনাথ পাহাড় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। এখানে অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক তীর্থস্থান। প্রতি বছর মহাশিবরাত্রি এবং অন্যান্য পূজা-অর্চনার সময় দেশি-বিদেশি হাজার হাজার ভক্ত এই পাহাড়ে সমবেত হন।
ধর্ম উপদেষ্টা জানান, সরকারের অগ্রাধিকার হলো পাহাড়ের পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা, যাতে ভক্তরা নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন।
চন্দ্রনাথ পাহাড়ে মসজিদ নির্মাণের গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইবাছাই না করে কোনো তথ্য শেয়ার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ধর্ম উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, “ভুয়া সংবাদ বা গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না, যা সমাজে বিভেদ তৈরি করে।”
সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে মসজিদ নির্মাণের কোনো প্রকল্প নেই। বর্তমানে পাহাড় ও মন্দির এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো গুজব বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিস্থিতি অস্থিতিশীল না করে।


