৪৫ বছরের পুরনো কালভার্ট ধসে নগরবাসীর দুর্ভোগ
চট্টগ্রাম নগরীতে টানা বর্ষণের ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত রাতে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টির জেরে বায়েজিদ বোস্তামি সড়কের শীতলঝর্ণা খালের ওপর নির্মিত একটি পুরনো কালভার্ট ধসে পড়ে। প্রায় ৪৫ বছর আগে নির্মিত এই কালভার্টটি ধসে পড়ার ফলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে স্টারশিপ এলাকা সংলগ্ন কালভার্টটি ভেঙে পড়লে, নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক—দুই নম্বর গেট থেকে অক্সিজেন মোড় পর্যন্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ মানুষ।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পোশাক কারখানা ও অফিসপাড়ায় বিপর্যয়
বায়েজিদ বোস্তামি সড়কটি শুধু সাধারণ মানুষের চলাচলের পথই নয়, এই এলাকায় রয়েছে অসংখ্য পোশাক কারখানা, ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। কালভার্ট ভেঙে যাওয়ার কারণে হাজারো শ্রমিক ও অফিসকর্মীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বিপত্তি। একপাশের চার লেন সড়কে যোগাযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে বিকল্প পথেও তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, কালভার্ট ধসের পরপরই রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিটি করপোরেশনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কালভার্ট পুনর্নির্মাণ বা মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।” তিনি আরও জানান, জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে নগরবাসীর কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, পুরনো ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে প্রশাসনের অবহেলার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। সময়মতো সংস্কার কাজ না হওয়ায় দুর্যোগে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে নগরবাসী।
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে
শুধু কালভার্ট ধস নয়, চট্টগ্রামে বিগত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাত নগরীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। চকবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহর, কাপাসগোলা, লালখান বাজারসহ বহু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কজুড়ে থৈ থৈ পানি। এতে করে বাস, সিএনজি, রিকশা চলাচল একপ্রকার অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়ছে মারাত্মকভাবে। দোকানপাট বন্ধ, স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
নগরীর অবকাঠামো দুর্বলতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি
বিশ্লেষকরা বলছেন, চট্টগ্রাম একটি পাহাড়ি শহর হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানে বেশি তীব্র হয়ে দেখা দেয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সঠিক নগর ব্যবস্থাপনা না থাকায় এই দুর্যোগগুলো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে পুরনো অবকাঠামোগুলো—যেমন কালভার্ট, ড্রেনেজ সিস্টেম, সড়কপথ ইত্যাদি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়েছিল।
এই দুর্বল অবকাঠামোগুলো এখন শহরবাসীর জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, পুরনো অবকাঠামোগুলো আধুনিক পদ্ধতিতে পুনর্গঠন করতে হবে এবং নগর পরিকল্পনায় জলাবদ্ধতা নিরসনের দিকটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।


