গাজীপুরে সাংবাদিক হত্যার নির্মম ঘটনা
গাজীপুরে ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী চক্রের হাতে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার সময়। আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে দেশি ধারালো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এরপরই তারা তাকে ধাওয়া করে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার রবিউল হাসান জানান, হত্যার আগ মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ হাতে এসেছে, যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করছে, আর পিছনে থেকে সাংবাদিক তুহিন ভিডিও করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই ভিডিও ধারণের কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত: চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা উত্তপ্ত
সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের হত্যাকাণ্ডটি ঘটে গাজীপুর নগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায়। নিহত আসাদুজ্জামান দৈনিক প্রতিদিন পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ঘটনাস্থল চন্দনা চৌরাস্তা মসজিদ মার্কেটের পশ্চিম পাশে, সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে দেখা যায়, এক নারী ও এক পুরুষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। সেই সময় কয়েকজন দেশি অস্ত্রধারী যুবক ওই পুরুষকে কোপানোর চেষ্টা করলে তিনি পালাতে সক্ষম হন। এর কিছুক্ষণ পর সাংবাদিক তুহিন সহকর্মীর সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে হত্যাকাণ্ডের চিত্র
সাংবাদিক শামীম হোসেন, যিনি তুহিনের সঙ্গে ছিলেন, বলেন, ‘আমরা চান্দনা চৌরাস্তা থেকে অন্য পাশে হাঁটছিলাম। হঠাৎ দেশি ধারালো অস্ত্রধারী কয়েকজন লোক একটি ব্যক্তিকে ধরে রেখে আক্রমণ করে। তুহিন তখন দ্রুত মুঠোফোন বের করে তাদের ভিডিও করতে শুরু করেন এবং পেছনে দৌড় দেন। তবে অস্ত্রধারীরা তাকে ধরে চায়ের দোকানে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। আমি তখন পুলিশকে খবর দেওয়ার জন্য সাহায্য করি।’
গাজীপুরের ছিনতাই চক্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তথ্য
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের বাসন, ভোগরা ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি সক্রিয় ছিনতাই ও সন্ত্রাসী চক্র রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা ধারালো দেশি অস্ত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালায় এবং নিয়মিত ছিনতাই করে থাকে। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া ব্যক্তিরা এদেরই সদস্য। নারীরাও এ চক্রের অংশ বলে পুলিশ মনে করছে।
বাদশা মিয়া নামের আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং জানান, ওই নারী ও তার টিম তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
গাজীপুর পুলিশ হত্যাকাণ্ড তদন্তে তৎপর
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার রবিউল হাসান জানান, সিসিটিভি ফুটেজের মেয়েটি ও অন্যান্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। তারা দ্রুত এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দমন করার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার, যারা জনস্বার্থের খবর পরিবেশন করে, তাদের সুরক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিকতা পেশার নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরো কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্ত্রাস-ছিনতাই রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


