ঝিনাইদহে সাইবার অপরাধ দমন অভিযান: ১১৯টি মোবাইল ফোন ও টাকা উদ্ধার
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগে চুরি হওয়া ১১৯টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
এছাড়াও মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৮৬ হাজার ৭৯০ টাকা উদ্ধার করে মালিকদের মাঝে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে এসব জিনিসপত্র হস্তান্তর করা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল ও অর্থ
ঝিনাইদহ জেলার সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব মোবাইল ফোন ও অর্থ উদ্ধার করে।
এই কর্মকাণ্ডে পুলিশের সাইবার গোয়েন্দা নজরদারি ও ডিজিটাল ফলোআপ কার্যক্রম কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
সাইবার অপরাধে পুলিশি সেবা: সাইবার বুলিং ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার
ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
এ পর্যন্ত:
- ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, টিকটক, টেলিগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ইত্যাদির মাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া ২৬ জন ভুক্তভোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।
- নিখোঁজ হওয়া ১২ জন ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, সাইবার সেল শুধুই প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এগিয়ে আসছে।
পুলিশের বক্তব্য: সাইবার পেট্রোলিং ও অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন,
“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঘিরে সংঘটিত বিভিন্ন সাইবার অপরাধ দমন এবং প্রতিরোধে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেলটি নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিং করে অপরাধ চিহ্নিত করে।”
তিনি আরও বলেন,
“সূত্রবিহীন হত্যাকাণ্ড বা চাঞ্চল্যকর কোনো অপরাধ ঘটলে প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পারছি।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইমরান জাকারিয়া
- জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. আব্দুল হাশেম
- সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অফিসার খালিদ হাসান ও ইখলাচুর রহমান মিঠু
তাঁদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সফলতা এসেছে বলে জানানো হয়।
সচেতনতা বার্তা: সাইবার অপরাধের ফাঁদ থেকে নিজেকে বাঁচান
সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে সাধারণ নাগরিকদেরও উচিত সতর্কতা অবলম্বন করা।
নিম্নোক্ত কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করলে অনেক প্রতারণা এড়ানো সম্ভব:
- অপরিচিত লিংক বা অ্যাপে ক্লিক না করা
- ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ না করা
- মোবাইল ব্যাংকিংয়ের তথ্য নিরাপদ রাখা
- সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করলে তা দ্রুত পুলিশের কাছে জানানো


