জীবনের হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা
গোপালগঞ্জে সংঘটিত সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে ঘিরে শুরু হওয়া নানা আলোচনা ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সেনাবাহিনী কখনও কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশেষভাবে সহায়তা করে না। আমরা জীবন রক্ষা করাকেই প্রধান দায়িত্ব হিসেবে দেখি।”
আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন কর্নেল শফিকুল।
রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
কর্নেল শফিকুল ইসলাম জানান, গোপালগঞ্জের ঘটনার সময় সেনাবাহিনী কাউকে রাজনৈতিকভাবে সাহায্য করেনি। বরং যারা প্রাণনাশের আশঙ্কায় ছিলেন, তাদের জীবন রক্ষায় সহায়তা করা হয়েছিল। তিনি বলেন,
“গোপালগঞ্জে যাদের জীবননাশের হুমকি ছিল, সেনাবাহিনী তাদের সহায়তা করেছে। এখানে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য ছিল না। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল শুধুই জীবন রক্ষা।”
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালনের সময় কারও রাজনৈতিক পরিচয় দেখে না, সকলের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখে।
স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই সভা-সমাবেশ
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, যে কোনো রাজনৈতিক দলের সভা, সমাবেশ, বা কর্মসূচি আয়োজনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। গোপালগঞ্জের ক্ষেত্রেও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল বলে জানান তিনি।
সহিংসতার সময় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার হয়নি
গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির একটি কর্মসূচিতে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন। এই প্রসঙ্গে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন,
“সেনাবাহিনী সেখানে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেনি। বরং আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ছিল। কেবল ইট-পাটকেল নয়, সেখানে ককটেলও ছোড়া হয়েছে। যখন সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে, তখন আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগ অনিবার্য হয়ে ওঠে।”
সঠিক ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত কমিশন গঠন
গোপালগঞ্জে সংঘটিত এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারকের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে বলে জানান সেনা কর্মকর্তা। তিনি আশা প্রকাশ করেন,
“এই তদন্ত কমিটি ঘটনাটির পেছনের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।”
সেনাবাহিনীর কার্যক্রম আরও হতাহত ঠেকিয়েছে
ঘটনার দিন সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল আচরণ না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন কর্নেল শফিকুল।
“আমরা দায়িত্ব না নিলে আরও হতাহত হতো কিংবা প্রাণনাশের ঘটনা ঘটত। তাই আমরা জীবন রক্ষার্থেই আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী কাউকে আলাদা করে দেখে না, বরং দেশের সকল নাগরিকের প্রতি সমানভাবে দায়িত্ব পালন করে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত কার্যক্রমের তাগিদ
সেনাবাহিনী একা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সকল বাহিনীকে একত্রে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যারা সামনের সারিতে কাজ করে, তাদের আরও কার্যকরী হতে হবে।”
তিনি বলেন,
“সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছে, যা তাদের তল্লাশি ও অপরাধী গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়। তবে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সেনাবাহিনীর কোনো হাত থাকে না।”
পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন কর্নেল শফিকুল
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন,
“পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী নিরাপত্তা দিতে পারছে না—এমন মন্তব্য ভিত্তিহীন। সেনাবাহিনী সেখানে যথাযথভাবেই নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে এবং তা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।”


