শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
20.3 C
Jessore
More

    গোপালগঞ্জে দল নয়, জীবন বাঁচানোই সেনাবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য: কর্নেল শফিকুল ইসলাম

    জীবনের হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা

    গোপালগঞ্জে সংঘটিত সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে ঘিরে শুরু হওয়া নানা আলোচনা ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সেনাবাহিনী কখনও কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশেষভাবে সহায়তা করে না। আমরা জীবন রক্ষা করাকেই প্রধান দায়িত্ব হিসেবে দেখি।”

    আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন কর্নেল শফিকুল।

    রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

    কর্নেল শফিকুল ইসলাম জানান, গোপালগঞ্জের ঘটনার সময় সেনাবাহিনী কাউকে রাজনৈতিকভাবে সাহায্য করেনি। বরং যারা প্রাণনাশের আশঙ্কায় ছিলেন, তাদের জীবন রক্ষায় সহায়তা করা হয়েছিল। তিনি বলেন,
    গোপালগঞ্জে যাদের জীবননাশের হুমকি ছিল, সেনাবাহিনী তাদের সহায়তা করেছে। এখানে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য ছিল না। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল শুধুই জীবন রক্ষা।”

    আরও পড়ুন :  স্বার্থ বিসর্জন ছাড়াই সফলতা: আমেরিকার সঙ্গে কোনো সামরিক চুক্তি হয়নি — প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

    তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালনের সময় কারও রাজনৈতিক পরিচয় দেখে না, সকলের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখে।

    স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই সভা-সমাবেশ

    এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, যে কোনো রাজনৈতিক দলের সভা, সমাবেশ, বা কর্মসূচি আয়োজনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। গোপালগঞ্জের ক্ষেত্রেও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল বলে জানান তিনি।

    সহিংসতার সময় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার হয়নি

    গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির একটি কর্মসূচিতে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন। এই প্রসঙ্গে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন,
    সেনাবাহিনী সেখানে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেনি। বরং আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন,
    এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ছিল। কেবল ইট-পাটকেল নয়, সেখানে ককটেলও ছোড়া হয়েছে। যখন সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে, তখন আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগ অনিবার্য হয়ে ওঠে।”

    আরও পড়ুন :  পর্যটন ছাড়া সব ধরনের ভিসা দিচ্ছে ভারত — জানুন সর্বশেষ আপডেট

    সঠিক ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত কমিশন গঠন

    গোপালগঞ্জে সংঘটিত এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারকের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে বলে জানান সেনা কর্মকর্তা। তিনি আশা প্রকাশ করেন,
    এই তদন্ত কমিটি ঘটনাটির পেছনের প্রকৃত কারণ দায়ীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।”

    সেনাবাহিনীর কার্যক্রম আরও হতাহত ঠেকিয়েছে

    ঘটনার দিন সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল আচরণ না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন কর্নেল শফিকুল।
    আমরা দায়িত্ব না নিলে আরও হতাহত হতো কিংবা প্রাণনাশের ঘটনা ঘটত। তাই আমরা জীবন রক্ষার্থেই আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি।”

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী কাউকে আলাদা করে দেখে না, বরং দেশের সকল নাগরিকের প্রতি সমানভাবে দায়িত্ব পালন করে।

    আরও পড়ুন :  যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অবস্থান: ফেরত পাঠানো হলো আরও ৩৯ বাংলাদেশিকে

    আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত কার্যক্রমের তাগিদ

    সেনাবাহিনী একা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
    আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সকল বাহিনীকে একত্রে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যারা সামনের সারিতে কাজ করে, তাদের আরও কার্যকরী হতে হবে।”

    তিনি বলেন,
    সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছে, যা তাদের তল্লাশি অপরাধী গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়। তবে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সেনাবাহিনীর কোনো হাত থাকে না।”

    পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন কর্নেল শফিকুল

    এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন,
    পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী নিরাপত্তা দিতে পারছে না—এমন মন্তব্য ভিত্তিহীন। সেনাবাহিনী সেখানে যথাযথভাবেই নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে এবং তা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।”

    লেটেস্ট আপডেট

    আইপিএলের আগেই বড় ধাক্কা! মানহানি মামলায় ধোনিকে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ

    আইপিএল শুরুর আগেই মহেন্দ্র সিং ধোনির সামনে এলো এক...

    খুলনা–৫ আসনে চমক! অল্প ভোটে হারলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার

    খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির...

    বালির তটে আটকে গেল যাত্রীভর্তি বিমান – পাইলটের বুদ্ধিতে বাঁচল ৫০ প্রাণ

    আকাশে উড়ছিল সব ঠিকঠাক। যাত্রীদের কেউ জানালার বাইরে তাকিয়ে...

    বগুড়ার সাত আসনে ধানের শীষের জোয়ার: তারেক রহমানসহ সবখানেই এগিয়ে বিএনপি প্রার্থীরা

    বগুড়ার রাজনীতিতে এখন একটাই আলোচনা—সাতটি আসনেই এগিয়ে আছে বিএনপির...

    নামিবিয়ার দুর্দান্ত বোলিংয়ে চাপে ভারত: ৯ উইকেট হারিয়েও কোনওক্রমে ২০০ পার সূর্যদের

    নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটা কাগজে-কলমে যতটা সহজ মনে হচ্ছিল, মাঠে...

    বাছাই সংবাদ

    আইপিএলের আগেই বড় ধাক্কা! মানহানি মামলায় ধোনিকে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ

    আইপিএল শুরুর আগেই মহেন্দ্র সিং ধোনির সামনে এলো এক...

    খুলনা–৫ আসনে চমক! অল্প ভোটে হারলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার

    খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির...

    বগুড়ার সাত আসনে ধানের শীষের জোয়ার: তারেক রহমানসহ সবখানেই এগিয়ে বিএনপি প্রার্থীরা

    বগুড়ার রাজনীতিতে এখন একটাই আলোচনা—সাতটি আসনেই এগিয়ে আছে বিএনপির...

    বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৬: ফলাফলের অপেক্ষায় ভারত, দিল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া

    বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখন শুধু দেশ...

    ভোটগ্রহণ শেষে চমক! ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেটে কম ভোটের রহস্য

    বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন...

    যশোরে উৎসবের আমেজে ভোট, মাঝেই হামলা ও সিল চুরির অভিযোগ! কী ঘটল নির্বাচন দিনে?

    যশোরে দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয়...

    জীবনসায়াহ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ, যশোরে হুইলচেয়ারে এসে ভোট দিলেন বৃদ্ধা

    যশোর সদর উপজেলার মুনসেফপুরে হুইলচেয়ারে এসে ভোট দিলেন অশীতিপর...

    একদলীয় নির্বাচন থেকে উৎসবমুখর ভোট—৩৫ বছর পর কেন ভোট দিলেন এই অধ্যাপক?

    যশোরে ৩৫ বছর পর ভোট দিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক...

    এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

    জনপ্রিয় ক্যাটাগরি

    Translate »