হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফিরলেন ফেরত প্রবাসীরা
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করায় দেশটি থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে আরও ৩৯ জন বাংলাদেশিকে। শনিবার, ২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারা এসে পৌঁছান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পুলিশ।
চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে প্রত্যাবর্তন, নিশ্চিত করা হয় মানবিক আচরণ
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করে এই বাংলাদেশিদের দেশে পাঠানো হয় এবং ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কোনো রকম অমানবিক আচরণ হয়নি বলেও জানানো হয়।
প্রথমে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল ৬১ জনকে, এলেন ৩৯ জন
এর আগে, শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগ এক বার্তায় জানিয়েছিল, মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমানে ৬১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ৩৯ জনই বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন। বাকি ২২ জনের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ফেরত পাঠিয়েছে আরও ১১৮ জনকে
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময় ১১৮ জন বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত পাঠিয়েছে। এসব বাংলাদেশি দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বসবাস করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেফতার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে শুরু হয় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করা বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কড়া নীতি গ্রহণ করা হয়।
এই ‘ডিপোর্টেশন নীতির’ আওতায় অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকেও প্রতি মাসে কিছু নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। অনেক সময় এসব নাগরিক অভিবাসন আবেদন বাতিল, ডিটেনশন অর্ডার, কিংবা আদালতের রায়ে ফেরত পাঠানোর আদেশের শিকার হন।
অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি ও বাস্তবতা
বিশ্বজুড়ে অবৈধ অভিবাসন এখন এক জটিল সংকট। উন্নত জীবনের আশায় অনেকেই মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ বা আমেরিকার পথে পাড়ি জমান চোরাইপথ বা ভিসা-অবৈধ উপায়ে। অনেকে দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে অর্থ খরচ করে পৌঁছালেও সেখানে গিয়ে পড়েন চরম বিপদে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করার ফলে এসব অভিবাসী আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত, কাজের অনুমতি নেই, স্বাস্থ্যসেবা সীমিত, এমনকি আটকের পর ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন থাকতে হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
আইনি অভিবাসনের প্রতি জোর দেয়ার আহ্বান
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের যুবসমাজের উচিত আইনি ও বৈধ উপায়ে বিদেশে অভিবাসনের চেষ্টা করা। সরকারও এ বিষয়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে—বিশেষ করে দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা ও আইনগত সহায়তার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে।


