প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণাকে বিএনপি উষ্ণ স্বাগত জানিয়েছে। দলটি মনে করে, এই ঘোষণার মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে এবং যারা এতদিন নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন, তাদের মধ্যেও আস্থা ও বিশ্বাস ফিরবে।
বিএনপির প্রতিক্রিয়া: ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “সারা জাতি এই ঘোষণার জন্য অপেক্ষায় ছিল। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন যে, তিনি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেবেন—এটাই সবাই শুনতে চেয়েছিল। এখন আর দোদুল্যমানতার জায়গা নেই। নির্বাচন নিয়ে নিশ্চিততা এসেছে।”
তার মতে, প্রধান উপদেষ্টার এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে, যা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করবে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা: সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত নির্বাচন চায় বিএনপি
বিএনপি প্রত্যাশা করে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ হবে। এ সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা চাই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক, যা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ঘোষণার ফলে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অচলাবস্থা কেটে যাবে। তিনি মনে করেন, একটি নির্ধারিত নির্বাচনের ঘোষণার ফলে অর্থনীতি পুনরায় সচল হবে।
জুলাই ঘোষণাপত্রের স্বীকৃতি ও সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির দাবি
প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়েও বিএনপি তাদের সমর্থন জানায়। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা নির্বাচন ঘোষণা ও জুলাই ঘোষণাপত্র—দুটোকেই আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি। জুলাই ঘোষণাপত্রকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে—এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সম্মানজনক সিদ্ধান্ত।”
রাজনৈতিক ঐকমত্য ও ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলা
বিএনপির এই প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে বোঝায় যে তারা একটি সহযোগিতামূলক রাজনৈতিক পরিবেশে নির্বাচনের পক্ষে এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান চায়।
এই ধরনের উদার মনোভাব ও পরস্পরকে স্বীকৃতি দেওয়া অবস্থান ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল গণতন্ত্রের সূচনা করতে পারে।


