বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী ফজলুর রহমান সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যের জেরে প্রাণনাশের আশঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়েছেন। দেশ-বিদেশ থেকে আসা হুমকি এবং তার বাড়ির সামনে সৃষ্ট মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে ফজলুর রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জামায়াতকে “কালো শক্তি” হিসেবে অভিহিত করে বলেন:
“যারা ৫ই আগস্ট ঘটিয়েছে, সেই কালো শক্তির নাম জামায়াতে ইসলাম, আর তাদের অগ্রগামী শক্তি ইসলামী ছাত্রশিবির।”
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ও গণআন্দোলনকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তার মন্তব্যকে “কুরুচিপূর্ণ” ও “বিভ্রান্তিকর” আখ্যা দিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।
সোমবার সকাল থেকেই ঢাকার সেগুনবাগিচা এলাকায় ফজলুর রহমানের ভাড়া বাসার সামনে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেন। “বিপ্লবী ছাত্র জনতা” ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ও জুলাই রাজবন্দীসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ও স্লোগানে দাবি করা হয়: ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করতে হবে, বিএনপি থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে ও তার দেওয়া বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব দাবি পূরণ না হলে তারা তার বাসার সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান বলেন, তার ও পরিবারের জীবনের ওপর হুমকি ক্রমেই বাড়ছে।“আমার বক্তব্যে যদি কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে থাকে, তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। আমাকে গ্রেফতার করুন, মামলা করুন, কিন্তু আমার বাড়ির সামনে মব তৈরি করে হত্যার হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানান: “আমি আমার এবং পরিবারের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার দাবি জানাচ্ছি। আমার স্ত্রী, সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।”
ফজলুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দিলে, সেনা ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা বিক্ষোভকারীদের রাস্তার মাঝখান থেকে সরিয়ে এক পাশে অবস্থান নিতে নির্দেশ দেন।
ঢাকার রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক বলেন: “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। আপাতত কোনো অঘটন ঘটার আশঙ্কা নেই।”
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বিএনপি ফজলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান: “নোটিশের জবাব হাতে পাওয়ার পর দল তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে দলের সিদ্ধান্তে মব বা কোনো বহিরাগত চাপ প্রভাব ফেলতে পারবে না।”
ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, শুধু দেশের ভেতরে নয়, বিদেশ থেকেও তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।“ফ্রান্স থেকে কিছু ইউটিউবার কয়েকদিন আগে আমাকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছে। এরা সবাই জামায়াতের লোক,” দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে সংবেদনশীল মন্তব্যের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
তাদের মতে: বিএনপির অভ্যন্তরে কৌশলগত দ্বন্দ্ব তীব্র হচ্ছে, ছাত্র সংগঠনগুলোর সক্রিয় বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করছে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।


