রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার ঘাটতি তুলে ধরলেন এনসিপি নেতৃবৃন্দ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “আমরা এমন এক দেশে বাস করছি, যেখানে বাস ও বিমানের ফিটনেস নেই। মানুষেরও নেই শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা, এমনকি রাষ্ট্র নিজেও এখন ‘ফিটনেসবিহীন’।” তিনি বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতিকে একটি অদক্ষ, দুর্বল ও অনিরাপদ রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাঝে ঠেলে দিয়েছেন।
রাষ্ট্রের ফিটনেস নিশ্চিত করা প্রজন্মের প্রতি দায়
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা যদি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু রেখে যেতে চাই, তবে এই ফিটনেসবিহীন রাষ্ট্রের সংস্কার আমাদেরকেই করতে হবে। এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া আমাদের জন্য অপরাধ।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং জনগণের জন্য উপযোগী করতে হলে তার ‘ফিটনেস’ ফিরে আনতে হবে। আর সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যেই গঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।
পথসভায় ফিটনেসহীন সমাজ ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত এই পথসভায় নাহিদ ইসলাম ছাড়াও এনসিপির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা সবাই সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে কোনো খাতেই কার্যকর ব্যবস্থাপনা নেই — গণপরিবহন থেকে শুরু করে চিকিৎসা, শিক্ষা, বিচার ব্যবস্থা ও প্রশাসন সবকিছুই আজ ভঙ্গুর। এই ভঙ্গুরতা দূর করতেই এনসিপির আবির্ভাব।
ফিটনেসবিহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থার দৃষ্টান্ত: বাস-উড়োজাহাজ থেকে প্রশাসন পর্যন্ত
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, বাসে উঠে যাত্রীরা আতঙ্কে থাকে, কারণ জানেন না বাসটি ফিট আছে কিনা। বিমানের ফ্লাইট বাতিল হয় আকস্মিকভাবে, যান্ত্রিক ত্রুটি হয় নিয়মিত। এসব কিছুর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, এ রাষ্ট্রের কোনো কাঠামোই সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু যানবাহন নয়, এ রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, এমনকি শিক্ষা ব্যবস্থাও এখন ভেঙে পড়েছে। এসবই রাষ্ট্রের ফিটনেসবিহীনতার জ্বলন্ত প্রমাণ।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এনসিপি নেতা বলেন, “আমরা কোনো ‘প্রথাগত’ রাজনীতির ধারক নই। আমাদের উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়, বরং একটি কার্যকর, ন্যায্য ও মানবিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”
এই লক্ষ্যেই গঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।
দলটি চায়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে একটি বাস্তবভিত্তিক, জনসম্পৃক্ত, এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে।
সভায় অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দের মন্তব্য
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন—অনিক রায় (যুগ্ম আহ্বায়ক, সঞ্চালক),সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক),হাসনাত আব্দুল্লাহ (দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক),সামান্তা শারমিন (জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক),আরিফুল ইসলাম (যুগ্ম আহ্বায়ক),তাসনিম জারা (জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব),আবু ছালেহ নাসিম (জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক)।সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাছন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী, যিনি এনসিপির জেলা প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন।
পথসভা ও পদযাত্রার বিবরণ
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জ পৌঁছান এবং সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কেন্দ্রীয় মডেল জামে মসজিদ থেকে এক পদযাত্রার মাধ্যমে তারা আলফাত স্কয়ারে পৌঁছান। পথে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেন তারা।
শেষ কথা: রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান
নাহিদ ইসলাম ও অন্যান্য নেতারা দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান, “এই রাষ্ট্র আমাদের সকলের। এটিকে গড়ে তোলার দায়িত্বও আমাদেরই। যদি আমরা চুপ থাকি, তাহলে এই রাষ্ট্র আরও বেশি অসুস্থ, অকার্যকর ও ফিটনেসবিহীন হয়ে পড়বে।”


