রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি (জাপা) কার্যালয়ের সামনে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গণ-অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জাপা নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং লাঠিচার্জ হয়। এ ঘটনায় গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে গণ-অধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতারা দ্বিতীয় দফায় জাপা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
জাপা নেতাকর্মী এবং গণ-অধিকার পরিষদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের কারণে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষের মাত্রা বেড়ে গেলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনাবাহিনী প্রথমে জাপা নেতাকর্মীদের সরে যেতে নির্দেশ দেয়। পরে গণ-অধিকার পরিষদের নেতাদের ঘটনাস্থল ছাড়ার জন্য ১০ মিনিটের সময়সীমা বেঁধে দেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে নেতাকর্মীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না সরে যাওয়ায় পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং অনেকেই আহত হন।
ঘটনার সময় গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর মারাত্মকভাবে আহত হন। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গণ-অধিকার পরিষদের অন্যান্য আহতদের মধ্যেও গুরুতর অবস্থা রয়েছে। রাশেদ খাঁন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক,সহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাশেদ খাঁন সাংবাদিকদের জানান, “জাতীয় পার্টির এবং আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।”
তার দাবি, হামলার উদ্দেশ্য ছিল গণ-অধিকার পরিষদের আন্দোলন ভেঙে দেওয়া এবং কর্মীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা।
এ ঘটনার আগে একই দিন (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে জাপা কার্যালয়ের সামনেই প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়েছিল। সে সময়ও গণ-অধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। তখনও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন।
শুক্রবার রাতের দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজয়নগর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা ছড়িয়ে পড়তে পারে আশপাশের এলাকাতেও।
সংঘর্ষের পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিজয়নগর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


