বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ একটি বিশেষ দিন। বহু প্রতীক্ষা, আবেগ আর রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন। এই যাত্রা শুধু একটি ফ্লাইটের খবর নয়, এটি হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের আবেগের প্রতিফলন। দীর্ঘ সময় পর দেশের আকাশে ফিরে আসা তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে সর্বত্র আলোচনা চলছে।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার কিছু পর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি। বিমানটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট হলেও যাত্রীদের দৃষ্টি ছিল এক ব্যক্তির দিকেই। বিমানবন্দরের পরিবেশ তখন ছিল ভিন্ন রকম। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল উত্তেজনা, আবেগ আর প্রত্যাশা।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজে ২০২ নম্বর ফ্লাইটটি সিলেটে অবতরণ করে। প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে বিমানটি। এই পুরো সময়জুড়ে বিমানবন্দর এলাকায় ছিল বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মাত্র ৫০ মিনিটের আকাশপথের যাত্রা
সিলেট থেকে ঢাকা আকাশপথে সময় লাগে খুব বেশি নয়। প্রায় ৫০ মিনিটের যাত্রা শেষে বেলা ১২টার দিকে ফ্লাইটটির হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে এই স্বল্প সময়ের যাত্রার মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে দীর্ঘ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
দীর্ঘদিন পর দেশের মাটিতে পা রাখার অনুভূতি যে কতটা গভীর, তা তারেক রহমান নিজেই প্রকাশ করেছেন সামাজিক মাধ্যমে।
দেশের আকাশে ফিরে আবেগঘন ফেসবুক বার্তা
দেশের আকাশসীমায় প্রবেশের পর তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবহ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।” এই একটি বাক্যই যেন তার দীর্ঘ নির্বাসন, অপেক্ষা আর প্রত্যাবর্তনের গল্প বলে দেয়।
এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির নেতাকর্মীরা পোস্টটি শেয়ার করে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। অনেকেই একে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঢাকায় পৌঁছে পূর্বাচলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
ঢাকায় পৌঁছানোর পর তারেক রহমান সরাসরি যাবেন রাজধানীর পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে, যা সাধারণভাবে ৩০০ ফিট এলাকা নামে পরিচিত। সেখানে তার সম্মানে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেবেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। কারণ দীর্ঘ সময় পর সরাসরি দেশে ফিরে নেতাকর্মীদের সামনে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। তার কথায় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মা খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে তিনি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দীর্ঘদিন পর মা-ছেলের এই সাক্ষাৎ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে আবেগ।
অনেকেই বলছেন, এটি শুধু একটি পারিবারিক সাক্ষাৎ নয়, বরং বিএনপির রাজনীতিতে এটি একটি প্রতীকী মুহূর্ত।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব
তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিদেশে অবস্থান করলেও দলীয় কার্যক্রম ও সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এবার সরাসরি দেশে থেকে রাজনীতি পরিচালনা করলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের রাজনীতিতে এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে।
নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশা
সিলেট থেকে ঢাকা—এই পুরো যাত্রাপথে তারেক রহমানকে ঘিরে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ছবি, ভিডিও ও স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন। কারও কাছে তিনি একজন নেতা, কারও কাছে প্রতিরোধের প্রতীক, আবার কারও কাছে আশার নাম।
অনেকে মনে করছেন, তার দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে বিএনপি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।


