বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো আজ। দীর্ঘ সতেরো বছর নির্বাসনের জীবন কাটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশেষে দেশের মাটিতে পা রাখলেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিএনপির শীর্ষ ও সিনিয়র নেতারা। এই আগমন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
তারেক রহমান গতকাল স্বপরিবারে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের পর দেশের মানুষের কাছে ফেরার এই যাত্রা বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগ, আশা ও প্রত্যাশার নতুন সঞ্চার করেছে। ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণের পরপরই বিমানবন্দরে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই প্রত্যাবর্তন ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন গতি আনবে।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতারা। ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। এই মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের অনেক নেতা, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন।
বিমানবন্দরের পরিবেশ ছিল সংযত কিন্তু আবেগপূর্ণ। দলীয় নেতারা শালীনতা বজায় রেখে তাদের নেতাকে স্বাগত জানান, যা রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই দেশে ফেরেন। অবতরণের পর এক হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, যখন ফুলের মালা দিয়ে জুবাইদা রহমানের মা তাকে বরণ করে নেন। এই দৃশ্য অনেকের চোখে জল এনে দেয়। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর পরিবারের এই মিলন সাধারণ মানুষের মধ্যেও আবেগের সঞ্চার করে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায় গণমাধ্যমে। ফ্লাইট অবতরণের মুহূর্ত থেকে শুরু করে বিমানবন্দরের প্রতিটি দৃশ্য দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সরাসরি সম্প্রচার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে “রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের লাইভ ইতিহাস” বলে উল্লেখ করছেন।
দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় দল পরিচালনা করেছেন প্রবাস থেকে। এবার সরাসরি মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। এতে দলীয় কৌশল, আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তার উপস্থিতি দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ করবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাসন শেষে নেতাদের দেশে ফেরা নতুন কিছু নয়। তবে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন আলাদা গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দেশের বাইরে থেকেও দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন সরাসরি দেশে অবস্থান করে রাজনীতি পরিচালনা করার অর্থ হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও দৃঢ়তা ও বাস্তবতা যুক্ত হওয়া।
অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, এই প্রত্যাবর্তন শুধু বিএনপির জন্য নয়, বরং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।


