ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র রক্ষায় নারীদের অগ্রণী ভূমিকার গুরুত্ব
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি নারী সমাজের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ এবং চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য নারীদের সজাগ থাকতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভায় নারীর ভূমিকায় গুরুত্বারোপ
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তারেক রহমান অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়—এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণকারী একটি মোড়। সেই নির্বাচনে জনগণের, বিশেষ করে নারীদের জেগে উঠা ও তাদের ভোটের মাধ্যমে মত প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি।”
ফ্যাসিবাদ ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে নারীর সজাগ দৃষ্টি অপরিহার্য
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এখনো কিছু অপশক্তি আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করতে চায়। তারা ফ্যাসিবাদী আচরণে সমাজকে বিভক্ত করতে চায়, এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকারে আঘাত হানতে চায়। এই অবস্থায় নারী সমাজের ভূমিকা শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়, বরং অপরিহার্য।”
তিনি আরও বলেন, “চরমপন্থা ও উগ্র মতবাদ যেন সমাজে স্থান না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হলে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে পরিবার থেকে। একজন মা, একজন বোন, একজন শিক্ষক হিসেবে নারীর প্রভাব সমাজের প্রতিটি স্তরে।”
মানবিক বাংলাদেশ গঠনে নারীদের অংশগ্রহণ অনস্বীকার্য
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের সামনে একটি বিরাট সুযোগ এসেছে—একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার। যেসব মানুষ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাঁদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে নারী সমাজকে নেতৃত্বের আসনে যেতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “নারী সমাজ যদি সামনের কাতারে না থাকে, তবে কোনও জাতীয় পরিবর্তনই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। দেশের উন্নয়ন, সমাজে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় নারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
ভোটের অধিকার এবং সচেতন অংশগ্রহণ
আগামী জাতীয় নির্বাচনে নারী ভোটারদের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনার একটি ভোটের মাধ্যমেই আপনি একটি উন্নয়নমুখী, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার পথ সুগম করতে পারেন। ফ্যাসিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে সচেতন নাগরিকত্ব—যার ভিত শক্ত হয় শিক্ষিত ও সাহসী নারীদের মাধ্যমে।”
নারী আন্দোলনের ঐতিহ্য ও তা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশের ইতিহাসে নারী আন্দোলন একটি শক্তিশালী ধারাবাহিকতা বহন করে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ধাপে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। তারেক রহমান সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নারীরা যদি পিছিয়ে পড়ে, তবে জাতি পিছিয়ে যাবে। কিন্তু নারীরা যদি জেগে ওঠে, তবে জাতির মুক্তি সুনিশ্চিত।”
উগ্র মতাদর্শ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সচেতনতা জরুরি
তিনি তাঁর বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেন, “রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বৈষম্য এবং ধর্মীয় উগ্রতার নামে অপশক্তির উত্থান আমরা অতীতে দেখেছি। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।”
নারীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, “রাজনীতি শুধু পুরুষদের মাঠ নয়। আপনাদের হাতে যদি সামাজিক পরিবর্তনের চাবিকাঠি থাকে, তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনেও আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন।”


