এখনকার দিনে স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কল্পনা করাই কঠিন। বাসে, ট্রেনে, রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে—সব জায়গায় মানুষের হাতে ফোন। বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ, সবাই দিনের বড় একটা সময় কাটাচ্ছেন মোবাইল স্ক্রিনে। কিন্তু এই অভ্যাস শরীরের জন্য মোটেই ভালো নয়। চোখের সমস্যা, ঘাড় ও মেরুদণ্ডের ব্যথা থেকে শুরু করে ঘুমের ব্যাঘাত—সবকিছুর মূলেই রয়েছে অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার।
এই বিষয়টি মাথায় রেখে জাপানের টোয়োকে শহরের মেয়র বড়সড় এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি শহরে স্মার্টফোন ব্যবহারে লাগাম টানতে নতুন অর্ডিন্যান্স জারি করতে চলেছেন।
এই নিয়ম কার্যকর হলে শহরের সবাইকে দিনে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে।স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা স্কুলের বাইরে দিনে ২ ঘণ্টার বেশি ফোন ব্যবহার করতে পারবে না।প্রাপ্তবয়স্করাও অফিস বা কর্মস্থলের বাইরে দিনে মাত্র ২ ঘণ্টার জন্যই স্মার্টফোন বা ট্যাব ব্যবহার করতে পারবেন।
এখানেই স্বস্তির জায়গা আছে। নিয়ম ভাঙলে জরিমানা বা কোনো মামলা হবে না। মেয়রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি এক ধরনের সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ। তাই শাস্তি নয়, বরং নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে এই পরিকল্পনা।
টোয়োকে শহরের প্রশাসন মনে করছে, মানুষকে সচেতন না করলে মোবাইলের আসক্তি ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। দিনের পর দিন অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়, মানসিক চাপ ও সামাজিক যোগাযোগেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই এখনই সচেতন হওয়া জরুরি।
জাপানের টোয়োকে শহরে চালু হতে চলা এই নিয়ম নিঃসন্দেহে এক অভিনব উদ্যোগ। শাস্তির ভয় দেখিয়ে নয়, বরং নাগরিকদের সচেতনতা বাড়িয়ে যদি মোবাইল ব্যবহারের সীমা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে তা বিশ্বজুড়ে দৃষ্টান্ত হতে পারে।


