বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো সিলেট। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান অবতরণ করেছে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের পর দেশের মাটিতে পা রাখাকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগ। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ভ্রমণের শেষ নয়, বরং দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সূচনা বলেও মনে করছেন অনেকে।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারেক রহমানের আগমন
বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজে ২০২ সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই ফ্লাইটেই দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সতেরো বছর পর বাংলাদেশের মাটি স্পর্শ করে এই বিমান। বিমানবন্দরে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে পুরো পরিবেশে এক ধরনের নীরব উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এটি ছিল নির্ধারিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট, তবুও যাত্রীদের মধ্যে এই যাত্রা আলাদা গুরুত্ব পায়।
লন্ডন থেকে ঢাকার পথে যাত্রার বিস্তারিত
বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাতের নীরবতায় শুরু হওয়া এই যাত্রা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রূপ নেয় একটি প্রতীক্ষিত ঘটনার দিকে। আকাশপথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভোরের পর বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করে বিমানটি। দেশের আকাশে প্রবেশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে।
পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরা
তারেক রহমানের সঙ্গে একই বিমানে দেশে ফিরেছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। পরিবারের এই একসঙ্গে ফেরা বিষয়টি অনেকের কাছেই আবেগের। দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটানোর পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশে ফেরাকে অনেকে দেখছেন ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে।
জাইমা রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তিনজন একসঙ্গে রয়েছেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “অবশেষে সিলেটে, বাংলাদেশের মাটিতে!” এই ছোট্ট বাক্যটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং হাজারো মানুষ এতে প্রতিক্রিয়া জানান।
সামাজিক মাধ্যমে তারেক রহমানের অনুভূতি
বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশের পর তারেক রহমান নিজেও ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।” এই একটি লাইনেই ফুটে ওঠে দীর্ঘ অপেক্ষা, প্রবাসজীবনের কষ্ট এবং দেশে ফেরার অনুভূতি। রাজনৈতিক নেতার পাশাপাশি একজন মানুষের আবেগও স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই পোস্টে।
সিলেটে যাত্রাবিরতি ও ঢাকায় আগমনের প্রস্তুতি
সিলেট বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতির পর ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে তারেক রহমানের বিমান ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা। এই সময়কে ঘিরে রাজধানীতেও নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়।
ঢাকায় অবতরণের পর কর্মসূচি
ঢাকায় পৌঁছানোর পর তারেক রহমান সরাসরি রাজধানীর পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে, যা সাধারণভাবে ৩০০ ফিট এলাকা নামে পরিচিত, সেখানে যাবেন। সেখানে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও যোগাযোগ রাখার এই পরিকল্পনা রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এরপর তিনি যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দীর্ঘ সময় পর মা-ছেলের এই সাক্ষাৎ নিয়েও মানুষের মধ্যে আবেগ ও কৌতূহল কাজ করছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব
তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তার ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়। দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে তার অংশগ্রহণ দলের জন্য নতুন গতি আনতে পারে বলে আশা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
অনেকেই মনে করছেন, এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হতে পারে। তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত নতুন উদ্দীপনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
সাধারণ মানুষের মাঝেও এই খবর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ দেখছেন এটিকে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন হিসেবে, কেউ আবার রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে, যা প্রমাণ করে এই ঘটনা কতটা আলোড়ন তুলেছে।


